সরকারের ২বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বছেলেন, উন্নয়ন নয়, দেশ আজ লুটপাট ও দূর্নীতির মহাসড়কে দেশ।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।এসময় তার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের নামে সরকার জনগনের পকেট কাটছে।রাজধানীতে উড়াল সড়ক তৈরীর নামে একদিকে উন্নয়নের নামে প্রসাধনীর প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামীন অবকাঠামো ধ্বংশ করে দিয়েছে। রাজধানীতে কয়েকটি মেগা প্রকল্প নিলেই তাতে অর্থনেতিক উন্নয়ন হয় না। অর্থনীতির মূল শেকড় গ্রামে, রাজধানীতে নয়। রাজধানীতে ফ্লাইওভার ও মেট্রো রেল দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।
মঈন খান বলেন, বিএনপির সরকারের শাসনামলের শেষ অর্থবছরে অর্থনীতির সুচক ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। দীর্ঘ সাত বছর চেষ্টা করেও সরকার ওই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। উন্নয়নের মহাসড়ক কোন দিকে যাচ্ছে, তা সূচকেই স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে সরকার ‘ফুলিয়ে-ফাপিয়ে’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে সূচকগুলো তুলে ধরেছিল, তার প্রত্যেকটি বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক পর্যালোচনা করেছে। সরকার যে সূচকের কথা বলেছে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠনগুলোর হিসেবে তা অনেক নিচু ছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের অভিযোগও এসেছে, সরকার তার পরিসংখ্যান বিভাগের থেকে এই সূচকগুলো বানিয়ে দেখিয়েছে। এও দেখেছি, রাতারাতি সূচক পরিবর্তন করা হয়েছে। এত বাড়িয়ে সাজিয়ে অঙ্ক কষেও সরকার ৬ দশমিক ৭ শতাংশে আজো পৌঁছাতে পারেনি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মঈন খান বলেন, এসব অবাস্তব সূচক দিয়ে কখনো আপামর জনসাধারণকে বোকো বানানো যাবে না, অর্থনীতির বিষেশজ্ঞদের তো নয়ই। আওয়ামী লীগ ঘরোনার অর্থনীতিবিদরা হয়তো জেগে ঘুমান, বা অর্থনীতি ভালো চলছে তা প্রমাণ করতে চান, তারা স্বপ্নের ঘোরেই থাকবেন।
দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে ‘ফাপা অর্থনীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাস্তবে একটি ডলারও এফডিআইতে বিনিয়োগ হয়নি। বিনিয়োগ নথিভুক্ত হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ হয়নি। বিদেশি বিনোয়োগ তো নয়ই, দেশের শিল্প উদ্যোক্তরাও গত কয়েক বছরে দেশে একটি টাকাও বিনিয়োগ করেনি। বিনিয়োগ না করার কারণে দেশের জমানো টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
এজন্য গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকেই মূল কারণ হিসেবে দেখান আবদুল মঈন খান। জন প্রতিনিধিত্বহীন এবং জবাদিহিতাহীন সরকারের কারণে অর্থনীতিতে এই ক্ষয়িষ্ণু পরিস্থিতি বিরাজ করে বলেও দাবি করেন মঈন খান।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ





