জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পর এবার চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায়ও বিচারক আবু আহমেদ জমাদারেরর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। তবে তা নাকজ করে দিয়েছেন বিচারক। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৮ মে দিন দিয়েছেন আদালত। 

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর এ বিষয়ে আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আদালতকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এরই মধ্যে বিচারক পরিবর্তন করতে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন। দুটি মামলা একই ধরনের। তাই এ মামলাও পরিবর্তন প্রয়োজন। খালেদা জিয়া আপনার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তাই চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলা পরিবর্তনের আদেশ দেন। 

পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শোনেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই মুহূর্তে এ মামলা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। মামলা শুনানি শুরু করা হোক।

শুনানি শেষে বিচারক বলেন, আমি মামলা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারব না। আপনারা উচ্চ আদালত থেকে আদেশ নিয়ে আসেন। 

এরপরই বিচারক মামলা ১৮ মে পর্যন্ত মুলতবি করেন। এখন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি শুরু হবে।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে বেলা ১১টা ৮ মিনিটে আদালতে পৌঁছেন তিনি। 
  
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দুটির কার্যক্রম যথাক্রমে ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের বিশেষ আদালত-৩ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ মো.কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে চলছে। 
  
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক। 
  
এই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। 
  
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। 
  
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুদক। 
  
এই মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। 
  
এই মামলায়ও ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। 

জারিফ