ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম।
ক্ষমতাসীনরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও দলটির হাইকমান্ডের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়িক অঙ্গন ছেড়ে রাজনীতির মাঠে নামলেন আতিক।
বৃহস্পতিবার এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ ধরেই আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলব।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে তিনি দল ও সরকারের নীতিনির্ধারক, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সুধীজন ও গুণীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় মতবিনিময় করছেন। এরই মধ্যে উত্তর ঢাকার প্রধান প্রধান রাস্তায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।
বনানী ১৪ নম্বর সড়কে তার প্রধান ব্যবসায়িক কার্যালয়টিও বলতে গেলে রাজনৈতিক অফিসে পরিণত হয়েছে। দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রতিনিয়ত এ কার্যালয়ে এসে ভিড় করছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন। বলছেন, ‘যোগ্য নেতা আতিক ভাই, মেয়র পদে তাকেই চাই।’
বৃহস্পতিবার দিনভর নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের পর কথা হয় আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। এ সময় এক সাক্ষাত্কারে আওয়ামী লীগ তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে জয়ী হওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আতিক।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেখেছি কঠিনেরেই সব সময় ভালো বাসেন। তিনি যোগ্য লোককে চিনতে কোনোদিন ভুল করেন না। প্রয়াত আনিস ভাইকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়ে তার প্রমাণ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আস্থার শতভাগ প্রতিফলন রেখেছেন আনিস ভাই।
উত্তর সিটির জনগণকে তিনি যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তার অনেকাংশই বাস্তবায়ন করেছেন। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এবারও অসমাপ্ত স্বপ্ন আর উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে পছন্দ করেছেন।
আমি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করছি-দল মনোনয়ন দিলে এবং নির্বাচিত হলে ঢাকাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরিত করব। এ লক্ষ্যে আনিস ভাইয়ের কাজ যেখানে গিয়ে থেমেছে, সেখান থেকেই শুরু করব।
আমার চষ্টো হবে ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। যাতে আমাদের শিশুরা ঘরের ভেতর বন্দি জীবনযাপন না করে খোলামনে পার্কে বা শান্ত-নিরিবিলি ও ধুলোবালিমুক্ত প্রশস্ত রাস্তার ফটুপাতে ঘুরে বেড়াতে পারে।
একই সঙ্গে তারা যাতে নিরাপদে বাসায়ও ফিরতে পারে। তাই নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলাই হবে আমার লক্ষ্য।
আতিকুল ইসলাম বলেন, এতদিন সবাই আমাকে ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু রাজনীতির মাঠে দেখেনি। তবে আমার চেতনায় ছিল মুক্তিযুদ্ধ এবং আদর্শের রাজনীতি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া রূপকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতাকেও আমি বিশ্বাস করি। এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর জন্য ব্যবসায়ীদেরও রাজনীতিতে আসা উচিত। এ পথটি কঠিন চ্যালেঞ্জের হলেও সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীরাও ভালো কিছু করতে পারেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে আমার নির্বাচনী মার্কা হবে নেৌকা। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এ নৌকা প্রতীক দিয়ে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। তিনি দেশটা স্বাধীন করে গেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে গেছেন।
আনিসুল হককেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাছাই করেছেন। তিনি আমাকেও পছন্দ করেছেন। আমি জীবন দিয়ে হলেও তার প্রতিদান দিতে চাই।
উত্তর সিটির জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সবাই চাই নিজেদের উন্নয়ন। পরিবারের উন্নয়ন। সমাজ এবং শহরের উন্নয়ন। এ উন্নয়ন চাইলে এবং ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়তে চাইলে নেৌকার বিকল্প নেই।
কীভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আতিক বলেন, নির্বাচনের মাঠে নেমেই আমি আধুনিক একটি ঢাকার রূপকল্প এঁকে রেখেছি। তাছাড়া আমাদের নগরবিদরা রয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম আছে। যারা নতুন ভোটার। তারা প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আমি নতুন প্রজন্মকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে চাই।
এজন্য নতুন প্রজন্মকে নিয়ে শিগগিরই একটি মতবিনিময় করব। ঢাকাকে তারা কীভাবে দেখতে চায়, তার একটি বাস্তবসম্মত ধারণা নেব তাদের কাছ থেকে। একটি অ্যাপস চালু করারও পরিকল্পনা আছে। ওই অ্যাপসের মাধ্যমে নগরবাসী কোন জিনিসটায় বেশি অগ্রাধিকার দেয়, সেটাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।
এর বাইরে দলের সিনিয়র নেতা, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুধীজন ও গুণীজন সবার সঙ্গে পরামর্শ করে আমার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব। তিনি বলেন, একটি শহরে যা কিছু ভালো করা যায়, যে উদ্যোগে সুন্দর হয়, যেভাবে শহর সচল থাকে এবং সবকিছু সিস্টেমে চলে, তার করণীয় নির্ধারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। এখানেও আনিস ভাইয়ের শেষটুকু থেকেই শুরু করতে চাই।
দলের নেতাকর্মীদের কাছে টানতে আপনার উদ্যোগ কী-জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, দলের যারা নীতিনির্ধারক আছেন এবং মাঠে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সশরীরে এবং ফোনে যোগাযোগ করছি। সবার সঙ্গে মতবিনিময়ও করছি।
আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এ বড় দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন নির্দেশ আসবে সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করবে। আমাকে এবং নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিএনসিসিতে নির্বাচনী হাওয়া দেখতে চান। সবাই মাঠে নামলে সেই হাওয়া নৌকা পালেই দেখতে পাবেন। শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, আমার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা, সুধীজন, গুণীজন- সবাই মাঠে থাকবেন বলে আশা করি।
এমআর





