আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষীপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ দল উদ্বিগ্ন। অপরাধী অপরাধীই। এর রাজনৈতিক কোন সংজ্ঞা নেই। এরা যে দলেরই হোক এদের বিচার করা হবে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
নাসিম বলেন, সম্প্রতিক নারায়নগঞ্জ, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এ সব অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুন না কেন, এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিভিন্ন উন্নত দেশেও এ ধরেনের অপরাধ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম আসার পর তাদের চাকরিচ্যুৎ করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে নাসিম বলেন, খালেদার বিখ্যাত উক্তি ‘এই সরকার পচে গেছে। আরো পচে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’ এ কথার অর্থ হলো তিনি দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির আরও অবনতি চান। র‌্যাবের বিলুপ্তি চাওয়াই এর প্রমান।
খালেদা জিয়ার আন্দোলনে নামার হুমকি সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনি (খালেদা জিয়া) কিসের আন্দোলন করবেন। কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন। আপনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোন হত্যাকাণ্ডের বিচার করেন নি। এমনকি আপনার নিজের স্বামীর হত্যারও বিচার করেননি। আন্দোলনের কথা আপনার মুখে মানায় না।
ভারতের সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, আশা করব বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তিসহ যে অমীমাংসিত বিষয় আছে সেগুলো সমাধানের জন্য তিনি এগিয়ে আসবেন।
নাসিম বলেন, বিএনিপ-জামায়াতের  নৈরাজ্যের  বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ উপলক্ষে আমরা চট্রগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী  জেলায় সমাবেশ করবো। বাকী জেলাগুলোতে সমাবেশ করার সময় নির্ধারণ করে আগামী জুনের মধ্যে সমাবেশ শুরু করা হবে।
উত্তরবঙ্গের পরিবহন ধর্মঘট আহবানকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণকে কষ্ট দিয়ে দাবি আদায় করা যায় না। আলোচনার টেবিলে বসে আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আসন্ন বাজেটকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিবান্ধব করার জন্য অর্থমন্ত্রীরর প্রতি আহবান জনান ১৪ন দলের এ মুখপাত্র।
সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত এ বিষয়ে ১৪ দল কি মনে করে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এ বিষয়ে অবশ্যই সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি দেখাতে হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরীকত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়ালসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ।
[b]ঢাকা, এমআর, ২৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]