সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নতুনভাবে চাঙ্গা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ইতোমধ্যেই দলের পূনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলেও চলছে পূর্নগঠন প্রক্রিয়া।গঠনতন্ত্রে ২০১ সদস্যের কমিটির কথা উল্লেখ্য রয়েছে। তারপরেও গত বছর ১৪ অক্টোবর ১৫১ সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও বর্তমান কমিটির মেয়াদ এরইমধ্যে ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একটি শাখারও নতুন কমিটি গঠন করা দুরে থাক, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্নাঙ্গ করা যায়নি। দীর্ঘদিন যাবত নেতৃত্ব শুন্য আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ন শাখা। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর উত্তর-দক্ষিনসহ প্রায় সব শাখার কমিটি মেয়াদউত্তীর্ন হয়ে গেছে।
তাই এবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সঙ্গে সঙ্গে এসব মেয়াদউত্তীর্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে আবারো রাজপথে সক্রিয় হতে চায় ছাত্রদল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আন্দোলনের ভ্যানগার্ড খ্যাত এই সংগঠনের ওপর বরাবরই আস্থা রাখতে চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মতো সুপার ইউনিটগুলোর নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
ঠিক সেসময়েই ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানকে আটক করা হয়। সভাপতিকে আটকের পর এপর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড নিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও সম্প্রতি সাংগঠনিক সম্পাদকের বাসায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানের কারণে আবারো গ্রেফতার ও মামলার আতঙ্কে ভূগছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
তবে এসব আতঙ্কের কথা মানতে নারাজ সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের মতে সরকারের বৈরি আচরণের কথা মাথায় রেখেই গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদল।
এদিকে ছাত্রদলের একটি সূত্রে জানা গেছে, যে কোনো সময় ঘোষণা করা হবে ঢাবিসহ অন্যান্য কমিটি। ওই সূত্রের আরও দাবি, ঈদের পর চলতি মাসের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্নাঙ্গসহ ঢাবি, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু সভাপতি আটকের পর বিষয়টি ঝুলে আছে। তবে খুব সহসাই এসব কমিটি গঠন করা হবে।
এবিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্নাঙ্গসহ ঢাবি ও অন্যান্য শাখার কমিটি গঠন সময়ের ব্যাপার। যে কোনো সময়েই আপনারা তা জানতে পারবেন।
ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে ভূগছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রদল দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরোদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছে। সেখানে ফ্যাসিবাদি এই অনির্বাচিত সরকারের প্রধান টার্গেট ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। প্রায় প্রতিটি নেতাকর্মীর নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এই সরকারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা আমদের অনেক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলেছে। অনেককে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পঙ্গু করে দিয়েছে। তাই আমি মনে করি গ্রেফতার ও নির্যাতনের পরোয়া করেনা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট ম্যাডাম (খালেদা জিয়ার) জন্মদিনের আয়োজনে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গুলশান অফিসে এসে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তাই বলতে চাই, ছাত্রদল সব ধরনের জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে রাজপথে ছিল থাকবে।
এবিষয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল হাসান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমি সরাসরি কমিটি গঠনের সঙ্গে জড়িত নই। তবে যতটুকু জানি অল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গসহ অন্যান্য কমিটি গঠন করা হবে।
মামলার ও গ্রেফতার আতঙ্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদল শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগনের অধিকার আদায়ে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। অতএব গ্রেফতার ও নির্যাতন করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দমানো যাবে না।
এমএইচ





