দীর্ঘ ১৪ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিকাল ৪টায় জেলা শহরের বড় মাঠে ২০দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।
দেশব্যাপী গুম-খুন-নির্যাতন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার, হয়রানি বন্ধ, ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে এ জনসভা আয়োজন করা হয়েছে।
জনসভা সফল করতে এরইমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। মাঠের উত্তর পূর্ব কোণে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা সুমি ডেকোরেটর ও তাহের মাইক হাউস মঞ্চ নির্মাণ এবং সাউন্ড সিস্টেমের কাজ করেছেন।
জনসভা স্থলের চারদিকে লাগানো হয়েছে ২২৫টি মাইক ও বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ছোট- বড় দু'শতাধিক ব্যানার। জনসভায় আগত মানুষদের দেখভাল করতে শত শত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলা সদরের বাহিরে থেকে আসা বিভিন্ন যানবাহনগুলোকে পার্কিং করে রাখতে শহরের বাহিরে আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। নীলফামারী প্রধান সড়কের ধারে নির্মাণ করা হচ্ছে শতাধিক তোরণ।
এছাড়া নানা রঙের পোস্টার লিফলেট আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে গোটা জেলার শহর-বন্দর, হাট-বাজার ও গাঁ-গ্রাম। সাজ সাজ রব পড়ে গেছে গোটা জেলায়।
যানজট কিংবা ভিড়ের সম্মুখীন যেন না হতে হয় সেজন্য অনেকে মঞ্চের নিকটস্থ আত্মীয়বাড়ি কিংবা আবাসিক হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে প্রাণপ্রিয় নেতাকে দেখার জন্য।
এদিকে জেলা প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এনে নিরাপত্তার চাদর তৈরি করা হয়েছে বলে নীলফামারী পুলিশ সুপার জোবাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
বেগম জিয়ার জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে পুলিশ প্রশাসন সকল প্রকার সহযোগিতা করছেন বলে জানান বিএনপির কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নীলফামারীর এই জনসভা থেকে অবৈধ সরকারের পতনের ডাক দিতে পারেন আমাদের জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০০ সালের ২০ জুলাই নীলফামারী বড় মাঠে খালেদা জিয়া চার দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিয়েছিলেন।
তবে তার মাঝে বেগম জিয়া সর্বশেষ নীলফামারী এসেছিলেন ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর। সেসময় তিনি ৪ দলীয় জোটের পক্ষে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় জেলা শহরের শহীদ মিনার চত্বরে পথসভা এবং জেলার ডোমার উপজেলা বাজার চত্বরে বক্তব্য রেখেছিলেন।
এআর





