পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি্ ও বান্দরবানে বাঙ্গালি-অবাঙ্গালি দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সকল অশান্তির জন্য পাকিস্তানই মূলত দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
আজ (বুধবার) রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে “জাতীয় উন্নয়নে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যথাযথ সম্পৃক্তকরণের ক্ষেত্র তৈরীতে করণীয়”- শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টারসার্ভিসেসইনটেলিজেন্স) দেশ স্বাধীন হবার আগে থেকেই পাহাড়ে অপতৎপরতার মাধ্যমে যেই অশান্তি সৃষ্টি করেছিল তা আজও অব্যাহত আছে।
এইচ টি ইমাম অভিযোগ করেন, দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পাহাড়কেন্দ্রিক আইএসআই-এর তৎপরতা বন্ধ থাকলেও জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পুনরায় তা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে্ও পাহাড়কেন্দ্রিক আইএসআইয়ের অনেক অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর কার্যক্রম রয়েছে বলে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ওই গোষ্ঠী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশে আইএস-এর অস্তিত্ব প্রমাণে ব্যস্ত চক্রটিকে সরকার খুব ভালোভাবে চেনে এবং এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন এইচ টি ইমাম।
এদিকে, আদিবাসীর নামে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এবং বাঙ্গালিদের বাদ দিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগ নেয়া হলে তা ফলপ্রসূ হবে না বলে সেমিনারে শঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
তারা আদিবাসী বিতর্কে না গিয়ে অত্র অঞ্চলে (পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি্ ও বান্দরবান) বসবাসরত ১১-১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙ্গালিদের সমন্বয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
তবে, শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি্ ও বান্দরবানের নৃ-গোষ্ঠী নয়, দেশের অন্যান্য সমতলভূমিতে শাওতালসহ আরও যত উপজাতি রয়েছে তাদের সবাইকে দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণেরও আহবান জানান বক্তারা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোজ নিলে এরকম প্রায় ৭৫টি উপজাতি পাওয়া যাবে-এমন তথ্য দিয়ে সেমিনারে বক্তারা বলেন, এদেরকে মূল স্রোতধারায় না আনার ফলে বিসিএস পরীক্ষায় আদিবাসীদের নামে নির্ধারিত ৫ শতাংশ কোটা পর্যন্ত পূরণ হচ্ছে না।
এদিকে, পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জন্য চীনের আদলে ঢাকার আশে-পাশে আলাদা পল্লী (Tribal Village) গড়ে তুললে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখত বলেও মত দেন বক্তারা।
তারা বলেন, এতে একদিকে ওইসব পল্লীকেন্দ্রীক বিদেশী পর্যটক আকৃষ্ট করা যেত, অপরদিকে সব নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা সরকারের হিসেবের আওতায় থাকতো। এরফলে চীন, কোরীয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওই নৃ-গোষ্ঠী থেকে জনশক্তি রপ্তানি করা যেত।
তারা আরও বলেন, অনেক দেশেই বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা গিয়ে কাজ করতে পারেন না শুধুমাত্র খাবার ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে। অথচ ওইসব দেশের মানুষের খাবারের সাথে বাংলাদেশের অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের খাবারের মিল রয়েছে এবং জীবনযাত্রাও অনেকটা কাছাকাছি। তাই নৃ-গোষ্ঠী থেকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে তাদের বিদেশে পাঠানো গেলে তা দেশের রেমিট্যান্স খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এদিকে, পাহাড়কেন্দ্রিক সব ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ করে সুষ্ঠুভাবে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সেখানে এখনও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জরুরী বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশ নেন, মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশীদ, মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন (অব) এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমান এবং বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএস-এর বোর্ড অব গভর্নসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ।
কেবি





