বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের লক্ষে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা, শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ডা. শফিক বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। দেশের জন্য শিক্ষিত সুনাগরিক তৈরির মূল দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ। যে জাতি শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারবে না। একজন শিক্ষক যদি স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন করতে না পারেন তাহলে শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি কী অবদান রাখবেন। তাছাড়া মেধাবী ছাত্ররাও শিক্ষার মত মহান পেশায় আসতে চাইবে না। ফলে শিক্ষকতার পেশায় মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষিত লোকের অভাব দেখা দিবে। শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী অসৌজন্যমূলক কথা বলায় শিক্ষকদের নিকট ক্ষমা চাইতে হয়েছে। আমি অবিলম্বে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জোর দাবি জানাচ্ছি।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের টিউশিন ফি-এর ওপর শতকরা সাড়ে সাত ভাগ ভ্যাট ধার্য করায় শিক্ষার্থীদের অনেকের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অর্থমন্ত্রী ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যে সব কথা বলেছেন তা তার অজ্ঞতারই পরিচয় বহন করছে। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি-এর ওপর শতকরা সাড়ে সাত ভাগ ভ্যাট আরোপ করায় দেশের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়েছে। শিক্ষা কোন পণ্য নয়, এটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। অর্থমন্ত্রী এবং সরকারের ইশারায় এনবিআর-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ভ্যাট শিক্ষার্থীদেরকে নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। ফলে ছাত্রদের টিউশন ফি বৃদ্ধি পাবে না। এখানেও প্রশ্ন জাগে যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছ থেকে কোন পণ্যটি কিনবে? এটি নিতান্তই হাস্যকর চাতূর্যপূর্ণ এবং প্রতারণামূলক বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থমন্ত্রীর এ চাণক্য নীতি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার যতই বলুক, শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকেই এ ভ্যাট আদায় করা হবে। ফলে অনেক মেধাবী গরীব শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। সকলেরই মনে আছে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এটা তেমন কিছু না। লুটেরাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে সরকার এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট আরোপ করছে। এ জন্য মন্ত্রীকে শুধু শিক্ষার্থীদের নিকট মাফ চাইলে হবে না, গোটা জাতির নিকট ক্ষমা চাইতে হবে।
ডা. শফিক আরো বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের শতভাগ ন্যায্য আন্দোলন দমনের জন্য অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ এবং পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ হামলা নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সরকারের এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত তাদের জন্যই বুমেরাং হবে। অবিলম্বে এ সন্ত্রাসী হামলা ও চাণক্য নীতি বন্ধ করে শিক্ষার ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারকে এ দাবি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য আপামর ছাত্র-জনতা, শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।”
এআই





