সিলেটবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি সবার কাছে হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার নেন। নৌকায় ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করে তিনি।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই। যেখানে যেখানে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেখানে সেখানে মামলা হয়েছে। সবার বিচার হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হানাদার বাহিনীর পক্ষে ছিল। তাদের বিচার আমরা শুরু করেছি। এদের মধ্যে অনেকেরই বিচার হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াউর রহমান সেই বিচার বন্ধ করেছিলেন। আমরা সেই বিচার শুরু করেছি। সেই বিচার অব্যাহত থাকবে, বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। আওয়ামী লীগই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের লক্ষ্য সব বিভাগেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। দ্রুতই সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেবো।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, সিলেটে আজ ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। আমরা সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করেছি। এর কাজ আমরা শুরু করেছিলাম, কিন্তু বিএনপি এসে সে কাজ বন্ধ করে দেয়।
‘বিমান এখন লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে আসে। ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছি। বিমানকে উন্নত করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো, করেছি। থ্রি-জি চালু করেছি, দ্রুতই ফোর-জি চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষার সম্প্রসারণ হচ্ছে। বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষার এর মধ্যে অন্যতম। দেড় কোটি মানুষকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। লাখো মানুষকে বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেকটি ছেলে-মেয়ে আজ এগিয়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান হয়েছে। কেউ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে না। সারা বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, যেন কেউ বসে না থাকে। আমরা বেতন বাড়িয়ে দিয়েছি। কোনো সরকার ১২৩ শতাংশ বেতন বাড়াতে পারেনি, আমরা করেছি।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক কোটি ২৮ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। এবারও ঠিক সময়ে শিশুদের হাতে হাতে বই পৌঁছে দিয়েছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখাপড়া শিখতে হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, পড়াশোনা না শিখলে ভবিষ্যতে তারা কোনো কাজে আসবে না। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে।
এমএইচ





