অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি প্রত্যাহারের সময় যে ১৬ টি শর্ত দিয়েছিল এই প্রতিবেদনে সেইসব শর্ত পূরণের ফিরিস্তি থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
গত রোববার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো জানান, আমরা আশা করব এর পরে জিএসপি ফেরতে আর কোনো সমস্যা হবে না। এরপরও যদি জিএসপি না আসে সেটা হবে আমাদের দূর্ভাগ্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৬ শর্ত দিয়েছে সেগুলির বেশ কয়েকটি পূরণে আরো সময় প্রয়োজন হবে। এগুলি পূরণ করা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে আমরা অধিকাংশ শর্তই পূরণ করতে পেরেছি বলে মনে করি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের তৈরি সিরামিক, প্লাস্টিকসহ অন্তত এক ডজন পণ্য গত ১০ মাস বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে মোট রফতানি আয়ের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের রফতানি শিল্প।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবনধসের কারণে ওই বছরের ২৭ জুন জিএসপি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে কিছু শর্তপূরণ হলে তা ফেরতের আশ্বাসও দেওয়া হয়।
প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি জসিমুদ্দিন জানান, জিএসপি স্থগিতের কারণে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। আমরা অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে পড়েছি। এতে অনেক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে আমরা এখন বিকল্প বাজার খুঁজছি। জিএসপি স্থগিতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের রফতানি কমেছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, জিএসপি স্থগিতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিরামিক শিল্প । বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার সিরামিক পণ্য রফতানি হলেও এবার ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার বেশি রফতানি হবে না বলে জানালেন সিরামিক কারখানা মালিকদের সংগঠন-বিসিডাব্লিউএমএর মহাসচিব রিজভি-উল-কবির। তিনি দাবি করেন, সিরামিক পণ্যে লাভ কম। তাই উৎপাদন খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক যোগ করার পরে পণ্যের যা দাম দাঁড়ায়, তা যে কোনো কোম্পানির জন্যই বহন করা কঠিন। এ অবস্থায় চীন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর কারণে বাংলাদেশের বাজার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি স্থগিতের কারণে দেশের রফতানি আয়ের যে ক্ষতি হচ্ছে, টাকার হিসাবে তা হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় সবচেয়ে বেশি হুমকিতে পড়েছে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি ইউরোপের দেশগুলোও যদি বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি স্থগিত করে, সেটি বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে, আর ব্যবসায়ীরা এই আশঙ্কাটাই বেশি করছেন।
[b]ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]
রাজনীতি
জিএসপি ফিরে পেতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ১৫ এপ্রিল
অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি প্রত্যাহারের সময় যে ১৬ টি শর্ত দিয়েছিল এই প্রতিবেদনে সেইসব শর্ত পূরণের ফিরিস্তি থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ





