বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি,আসুন। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহু মত থাকবে, মত ও পথের পার্থক্য থাকবে; কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। এই কাজ করলেই জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। রোববার বেলা সোয়া ৩টার দিকে তিনি সভামঞ্চে ওঠেন এবং ৪ টা আট মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।

এর আগে দুপুর পৌনে দু’টার দিকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঘরে ঘরে মানুষের কান্না আর আহাজারি। মানুষ আজ অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। তাই এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা বলি এই পরিবর্তন আসতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,আপনার অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, হতে পারে না।

ভোট পক্রিয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন,আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,এত ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। মানুষকে ভয় পেয়ে রাজনীতি করা যায় না । এরা মানুষকে ভয় পায়। এজন্য ৭ নভেম্বর আমাদের জনসভা করতে দেয়নি । আজকে অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু জনগণ যেন আসতে না পারে সেই ব্যবস্থা করেছে। গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। বাইরের জেলার মানুষ যেন না আসতে পারে। রাজধানীর হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, এমনকি আমিও যেন সমাবেশে আসতে না পারি সেই ব্যবস্থাও করেছে। আমি বাসা থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তায় খালি বাস রেখে দিয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভয়ে কাজ করার আহ্ববান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারি চাকরিজীবীদের ভয় দেখাচ্ছে। তারা বলছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি চলে যাবে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কারো চাকরি কেড়ে নেবে না। এবিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এসব (চাকরিচ্যুত করা) কাজ বিএনপির নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা দেখা হবে। কারো চাকরি খাওয়া হবে না।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে- বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ হত্যা করবে। আমরা মানুষ হত্যা করি না, মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ। এটা আওয়ামী লীগের কাজ, বিএনপির নয়।’

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের বাইরে সরকারের 'এজেন্সির লোক' দিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজকের সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করছেন। এতে আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দীমুখী নেতাকর্মীদের ঢল শুরু হয়। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে তারা অবস্থান নেন।

তবে সমাবেশে অংশ নিতে এসে পথে পথে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশ সফল না হওয়ার জন্য ব্যাপক ধর-পাকড় হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এছাড়া সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাস্তায় গণপরিবহন কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা। ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে ঢাকামুখী বাসও বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জারিফ