বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ও মানবাধিকার জোটের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে “স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই” শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার হাইজ্যাক হয়েছে। দেশের জনগণের ভোটের অধিকার নেই, ভাতের অধিকার নেই, স্বাভাবিকভাবে বাঁচার অধিকার নেই, আমাদের বৃদ্ধ মা, নিস্পাপ শিশুকে অজস্র কাঁদতে দেখতে হয় তারা তাদের পরিবারের প্রিয়জনদেরকে বছরের পর বছর ফিরে পাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদেরকে গুম করা হয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে গুম হওয়া ১৯ পরিবারের সদস্যদের হাহাকার আমাদের মানবাধিকার সংগঠকদের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। কারণ একের পর এক দেশে গুম এবং ক্রস ফায়ারের নামে রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষদেরকে খুন করা হচ্ছে আমরা সঠিকভাবে প্রতিবাদও করতে পারছি না।

কারণ ইতিপূর্বে কথা বলতে গিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কন্ঠকেও গুম করা হয়েছে। কারাগারের মেঝেতে অসুস্থ অবস্থায় তিনি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না।

মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে যখন আমরা শত সহস্র সংগঠন প্রেসক্লাব, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগে একত্রিত হয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হই তখন নিজেদের কাছেই অবাক লাগে বছরের বাকী দিনগুলো এমন ভাবে কেন সোচ্চার হতে পারি না।

তিনি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে রাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করতে হবে। অবিলম্বে স্বজনদের কাছে গুম হওয়া সকল সদস্যদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার ঘোষণা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক, অহিংস, অরাজনৈতিক চিন্তা চেতনা নিয়ে যারা মানবাধিকার সংগঠনে কাজ করছেন আসুন সকলে মিলে অসহায় বঞ্চিত মানুষদের পাশের এসে দাঁড়াই।

মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান শাহিদুর রহমান তামান্না, বাংলাদেশ ন্যাপের যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, এশিয়া হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আর.কে. রিপন প্রমুখ।

এমএ