শিক্ষকদের অসম্মান করে বক্তব্য রাখার দায়ে অর্থমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা উচিৎ এমন মন্তব্য করে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, বেতনভাতা ও মর্যাদার প্রশ্নে শিক্ষকদের দাবিগুলোর সাথে বিএনপি সহমত পোষণ করে। শিক্ষক সমাজ দাবি আদায়ে যে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন-তার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিপন বলেন, সময়ে সময়ে বেতন স্কেল নির্ধারণ একটি রুটিন বিষয়। তাই বাজারের বাস্তবতায় সরকারী চাকরিজীবিদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের দল-বিএনপি সমর্থন করে। সরকারী কর্মচারীদের স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য বাজার উপযোগী বেতন-ভাতা’র নিশ্চয়তা থাকা উচিৎ-তাতে মেধাবীদের সরকারী চাকরির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু ৮ম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বজন বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উত্থাপিত দাবী-দাওয়ার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। বাংলাদেশের সর্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ হয়েছে সরকারের অন্যান্য কর্মচারীদের বেতন কিন্তু ১৯৭২ সালের তুলনায় প্রকৃত আয় হয়ে গেছে তিন ভাগের এক ভাগ। প্রতিবেশী দেশগুলোর মত আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সম্মানজনক না হওয়ায় প্রকৃত মেধাবীরা শিক্ষকতার পেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আর যারা আছেন তারা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দের জন্য নানাভাবে লড়াই করছেন।
বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, বিএনপি একই সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের বেতন-ভাতা মর্যাদার দাবি দাওয়া তোলায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের প্রতি শিষ্টাচার বহির্ভ–ত যে মন্তব্য করেছেন-তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। বলগাহীন কথাবার্তা বলা, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা বিতর্কিত অর্থমন্ত্রীকে শিক্ষক সমাজ যে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন, তা যথেষ্ট নয়।
রিপন বলেন, বাজেট ঘোষণার পরপরই দলের পক্ষ থেকে অন্যান্য নানা বিষয়ে আমাদের দলীয় অবস্থা তুলে ধরার সাথে সাথে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি’র উপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকার শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ করতে যেয়ে শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ছেড়েছে এবং ৭% ভ্যাট বহাল রেখেছে। এর প্রতিবাদে নানা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকবৃন্দ প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি’র উপর ৭% ভ্যাট অবিলম্বে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সরকারকে ঘোষণার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
গতকাল ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকদের প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বর্বরোচিত যে হামলা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানান দলের পক্ষ থেকে। একইসাথে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলে দেয়ারও আহবান জানান তিনি।
এমএইচ





