ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী ২৮শে এপ্রিল। আর নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে মেয়র পদপ্রার্থীরা। নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। গত ৭ এপ্রিল থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে।

এদের মধ্য ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরে রয়েছেন বিএনপির সমর্থীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি ১০ এপ্রিল শুক্রবার নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন। প্রচারকালে তিনি জানান, ‘ঢাকাকে আন্তর্জাতিক মানের আদর্শ শহরে পরিণত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদ প্রার্থী আনিসুল হক তার নির্বাচনী প্রচারকালে বলেন,

ঢাকাকে বড় পরিবার মনে করি। মেয়র নির্বাচিত হলে তাঁর দায়িত্ব হবে সততা দিয়ে নিষ্ঠা দিয়ে এ পরিবারটিকে আগলে রাখা।

তিনি বলেন, বাবা যেমন পরিবারকে আগলে রাখেন, তেমনি ২৪ লাখ ঢাকাবাসী পরিবারকে আগলে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিবারের সঙ্গে থেকে সর্বশক্তি দিয়ে বড় পরিবারটিকে একটু স্বস্তি দেওয়া, নিরাপত্তা দেওয়া এবং একটি ভালো নগরী উপহার দেওয়া চেষ্টা করব। গত ২১ দিন ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। মানুষের স্বপ্নের কথা শুনছি।

একটি নতুন জীবন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে আনিসুল হক জানান, ২৪ লাখ ঢাকাবাসী পরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিচিত হওয়া ও আত্মীয়তা শুরু হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন বলেছেন, আমি ঢাকার ছেলে। নাগরিক ভোগান্তির কারণ ও সমস্যাগুলো আমি জানি। জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে সমাধানে কাজ করবো। ঢাকা হবে বিশ্বের রোল মডেল।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু প্রতিশ্রুতি নয় আমি বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। কাজ করে আমি এর প্রমাণ করবো।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে, জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক জ্যাম, পানি, গ্যাস ইত্যাদি। এগুলোই আগে সমাধান করবো।

সাঈদ খোকন বলেন, আমি একা নয়, নগরবাসীকে সাথে নিয়েই আমি কাজ করতে চাই। আশা করবো নগরবাসী আমার উপর বিশ্বাস রাখবে এবং আমার পাশে থাকবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে নতুন উদ্যোগে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন। নগরীর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড, চান্দগাঁও ও মোহরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে নাছির উদ্দিন উন্নত ও অনুন্নত এলাকার মধ্যে বিদ্যমান যে বৈষম্য রয়েছে তা সুযোগ পেলে তার দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন।

এ সময় তিনি বলেন, 'নগর কেন্দ্রের বাইরে একটু দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ওয়ার্ডগুলো বৈষম্যের শিকার করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েও এসব ওয়ার্ডের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পান না। গত ৫ বছরে এসব ওয়ার্ডে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। জনগণ আমাকে মেয়র নির্বাচিত করলে আমি সমন্বিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেবো।'

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনদিন আগে থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হলেও ১০ এপ্রিল শুক্রবারে মাঠে নেমেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম।

৭ এপ্রিল থেকে তার পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে আসলেও শুক্রবারই নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন তিনি। তবে নিজের প্রচারণার প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের এক সাথে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মনজুর আলম। মনজুর নির্বাচনী প্রতীক 'কমলা লেবু।'

প্রচারণায় তার সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম বিএনপির তিন শীর্ষস্থানীয় নেতা; দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় করার সময় মনজুর আলম বলেন, নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করাসহ সার্বিক উন্নয়নে যে কাজ শুরু করেছেন তা শেষ করতে এলাকাবাসী ভোট ও সমর্থন কামনা করেন। এছাড়া বক্তব্যে বিএনপি নেতারা প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আচরণ বিধি ভঙ্গের বিভিন্ন অভিযোগ আনেন।

নগরীর কাট্টলীস্থ বাসভবনে চট্টগ্রাম হকার শ্রমিক দল ও আকবর শাহ থানা মহিলা দলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করে মনজুর আলম বলেন, এবার মেয়র নির্বাচিত হলে দরিদ্র হকার, ছিন্নমূল মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসএইচ