বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। সরকার গণমানুষের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নিজেরাই মানুষের অধিকার হরণ করে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই জনগণের সকল সমস্যা সমাধান এবং দেশ ও জাতি গঠনে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি গণবিরোধী সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

তিনি গত শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানা আয়োজিত প্রাক্তন ছাত্র দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

থানা আমীর আবু আম্মারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আহমদ বিন মনির। আরো উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি আবুল বাশার খান, জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম, এ আলী কাজল, ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দীন এবং ভাটারা থানার সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকারের হলেও তারাই পরিকল্পিতভাবে জননিরাপত্তায় বিঘ্নসৃষ্টি করছে। তারা কোন ভাবেই গুপ্তহত্যা বন্ধ করতে পারছে না। আর গুপ্ত হত্যা বন্ধে সরকার আন্তরিকও নয়। মূলত এসব গুপ্তহত্যা দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু গণবিরোধী সরকার মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই গুপ্তহত্যা বন্ধের কথা বলে কথিত সাঁড়াশি অভিযানের নামে জনগণকে আতঙ্কগ্রস্থ করেছে। মূলত কথিত অভিযানের নামে সরকার বিরোধী দলকে দমনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই জনগণ এই ব্যর্থ ও জুলুমবাজ সরকারের অপশাসন ও দুঃশাসনের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায়। তিনি জুলুমবাজ ও ব্যর্থ সরকারের পতনের লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।

তিনি বলেন, সরকার নজীরবিহীন ও ইতিহাসের জঘন্যতম মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, সাবেক সফল মন্ত্রী ও আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লাকে কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। তারা ইসলামী আন্দোলন ও বরেণ্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে যে মিডিয়া সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল তা দেশের সচেতন মানুষ কোন ভাবেই বিশ্বাস করেনি। তারা জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যে নজীবিহীন অপপ্রচার চালিয়েছে সেসব যেমন জনগণ বিশ্বাস করে নি বরং আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে সরকারের ষড়যন্ত্র পুরোপুরি বুমেরাং হয়েছে। মূলত কথিত বিচার ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার মাধ্যমে সরকার জামায়াতকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করেছিল তা কখনো সফল হবে না বরং হত্যাসহ সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই জামায়াতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে-ইনশাআল্লাহ।

তিনি সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী শাহাদাতের পূর্বে মহুর্তে বলেছিলেন, তার শাহাদাত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের সূচনা করবে। তাই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে আমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও শহীদানের আজীবন লালিত স্বপ্ন কুরআনের আলোকে ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক একটি কল্যাণমূখী সমাজ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম প্রচেষ্ট চালিয়ে যেতে হবে। তাই শাহাদাতের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে চরম ধৈর্য, সাহসিকতা, দৃঢ়তা পাশাপশি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ব্যাপকভিত্তিক কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানার্জন, তাওকয়া ও ইসলামী নৈতিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের যথোপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এমআইএস