বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারকে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের একটি শীর্ষস্থানীয় আইনি থিঙ্কট্যাঙ্ক।
এছাড়া লন্ডন ও ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করে ‘বাংলাদেশে মানবাধিকারের শর্ত ভঙ্গ করে অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে’বলেবিশ্ববাসীকে অভিহিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতির মধ্যে ফের এ আহ্বান জানানো হলো।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের আইনগত দিক’শীর্ষক ওয়ার্কশপে পাকিস্তান সরকারের প্রতি এসব আহ্বান জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আইনি থিংকট্যাংক দ্য রিসার্স সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল (আরএসআইএল)। শুক্রবার করাচির স্থানীয় এক হোটেলে এ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
আরএসআইএল প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আহমের বিলাল সুফি তার বক্তৃতায় বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারবর্গও বিচারের বিষয়টি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার ফোরামে উত্থাপন করতে পারেন। ‘সাক্ষ্য গ্রহণে অসম্মতির ব্যাপারগুলোও জাতিসংঘ ফোরামে নেয়া যেতে পারে’বলে তিনি যোগ করেন।
ওয়ার্কশপে জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হোসেন হারুন, অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. তারিক ওয়াসিম গাজি, জুনাগড়ের নবাব নওয়াব মোহাম্মদ জাহাঙ্গির খানজিসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, আইন বিশারদ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন প্রক্রিয়া, প্রচলিত আইনের বিভিন্ন ধারা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বক্তারা বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অ্যাডভোকেট সুফি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত আইন ১৯৭২ সালের দালাল আইন, আন্তর্জাতিক আপরাধ অ্যাক্ট ১৯৭৩ ( সংশোধনী ২০০৯) এবং বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন প্রভিশনের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই চুক্তির আওতায় ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীসহ কারাবন্দী সকল অপরাধীকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর যুদ্ধাপরাধীদের কিভাবে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রশ্ন তোলা উচিত।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ অ্যাক্ট ২০০৯ সালে পুনুরুজ্জীবিত করে এর অধীনে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ‘মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ট্রাইব্যুনাল ত্রুটিপূর্ণ’বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে অপরাধ কার্যপ্রণালী বিধি অথবা সাক্ষ্যপ্রমাণের আইন প্রয়োগ করে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদান ক্ষমতা নজিরবিহীন।
অ্যাডভোকেট সুফি বলেন, বাংলাদেশের আইন জনশ্রুতি প্রমাণের দ্বারা মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে যা বিশ্বের কোথাও দেখা যায়নি।
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম একটি বিশেষ দলকে টার্গেট করে সংঘটিত হচ্ছে এবং পক্ষপাতমূলক তদন্তের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
‘বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রোভিশনের আর্টিকেল ৯,৬ এবং ১৪ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘণ’বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরএসআইএল প্রধান বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মত সংগঠন ট্রাইব্যুনালের বিচার পদ্ধতির সমালোচনা করেছে।
ওয়ার্কশপে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন 'অসংগতি' নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। তারা অবিলম্বে পাকিস্তান সরকারকে বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা এবং পাক সংসদের নিন্দা প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এসটি





