অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকার দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট এ নির্বাচন কোন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সরকারও বলেছিল এটি নিয়ম রক্ষার ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন।
কিন্তু সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চক্রান্তের প্রেক্ষিতে বিরোধীদল শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে। দেশের জনগণ এ আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে। বিশ্ববাসী আন্দোলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে সংলাপ সমঝোতার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহবান জানায়।
এমতাবস্থায় সরকার অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী, সহিংস ও জঙ্গিবাদী হিসেবে চিত্রায়িত করার ষড়যন্ত্র করে। তাদের এ চক্রান্ত বাস্তবায়নের জন্য দলীয় লোকদের দ্বারা পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটায়। ফলশ্রুতিতে পেট্রল বোমা বানাতে ও ফাটাতে গিয়ে সরকার দলীয় অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী ক্যাডার ধরা পড়ে এবং আহত হয়।
সঙ্গত কারণেই তাদের চক্রান্ত জনগণের সামনে ফাঁস হয়ে যায়। সরকার দিশেহারা হয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য গণহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারের নৃশংসতার শিকার হয়ে শতাধিক লোক নিহত হয়েছে।
সরকারের নির্মম ও নৃশংস জুলুম-নির্যাতন থেকে মসজিদের ইমামগণ পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাজীরবাগ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা বেলাল ও চৌদ্দগ্রাম মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু ইউসুফকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে তাদের পায়ে গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করার পরে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তার তাদের জীবন রক্ষার জন্য পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার পৌরকলচমা গ্রামের যুবলীগ কর্মী ওয়াসীমকে পিস্তলসহ ১৭ ফেব্রুয়ারী এবং ফেনী জেলার দাগনভূইয়া উপজেলার ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মাদ কাওসারকে গুলি ভর্তি পিস্তলসহ পুলিশ জনগণের সহযোগিতায় ১৬ ফেব্রুয়ারী আটক করেছে।
বোমা ফাটাতে গিয়ে ও পিস্তলসহ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধরা পড়ায় দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সারাদেশে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাই নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাচ্ছে।
২০ দলীয় জোটের আন্দোলন বানচাল করার জন্য আজও রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় তিনশত নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ও কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জনাব মশিউর রহমান।
আজ কুমিল্লা মহানগরীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৫ জন নেতা-কর্মীর প্রত্যেককে ভ্রাম্যমান আদালত ৪ মাসের কারাদ- প্রদান করেছে। আমি সরকারের এ সব নৈরাজ্য, সন্ত্রাস এবং গণগ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে ২০ দলীয় জোট ঘোষিত সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্য আমি দেশের সংগ্রামী জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
এসএইচ





