প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতার লোভে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।
শেখ হাসিনার ৩৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের তাজ হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ফিলিস্তিনের শান্তিকামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন ও সহমর্মিতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে।
বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে রাজনীতি করলেও এরা যে নিজেদের জন্যই শুধু রাজনীতি করে এটিই প্রমাণ দিয়েছে মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। মানুষের রক্তে যাদের হাত সব সময়ই রঞ্জিত হয়, তারা তো আরেক রক্ত রঞ্জিত হাতের সঙ্গে হাত মেলাবেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে রতনে রতন চেনে। তাদের নিজেদের হাতেও তো মানুষ পোড়ানোর গন্ধ, আন্দোলনের নামে শত শত মানুষের রক্ত জড়িয়েছে, লাশ ফেলেছে তারা।, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই সংখ্যালঘু হত্যা, তাদের মেয়েদের ধর্ষণ থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আন্দোলনের নামে মানুষ পোড়ানো এগুলোই তো বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি।
তিনি বলেন, দেশের চলমান উন্নয়নে সরকারের ভূমিকায় মানুষ সন্তুষ্ট, সুতরাং উন্নয়নমূখী জনগণের সামনে কোনো ষড়যন্ত্রই ঠিকবে না। দেশের জনগণই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে, সব ষড়যন্ত্রেরই বিচার হবে। আইন তার আপন গতিতে চলবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনের হাত থেকে দোষী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ষড়যন্ত্র করে, মানুষ হত্যা করে যে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না এটি বুঝতে হবে খালেদা জিয়াকে। সরকার উৎখাতের হুঙ্কারতো অনেক দিয়েছেন তিনি, কী লাভ হলো। লাভের লাভ এখন লেজ গুটিয়ে ঘরে উঠে বসেছেন, আদালতে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
মানুষ পোড়ানো আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত এখন গুপ্ত হত্যা শুরু করেছে এমন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে তারা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বিদেশি নাগরিক, ব্লগার, শিক্ষাবিদ একের পর এক গুপ্ত হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকান অ্যাম্বেসির সাবেক কর্মকর্তা জুলহাজকে হত্যা করে ওরা বিশ্বব্যাপী একটি আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছে। আসলে, একাত্তরের ঘাতকদের সেই গণহত্যার ধারাবাহিকতায়ই বিএনপি-জামাতের রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপি-জামাতকে একাত্তরের পরাজিত শক্তির পদলেহনকারী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে জাতির যত ঘৃণা। পাকি প্রেম নিয়ে আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজনীতি করা যাবেনা।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অল ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সামসুদ্দিন খান প্রমুখ।
এমবি





