স্থানীয় নির্বাচনে বাবা-ছেলে বা এক ভাই আরেক ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করে থাকে। আর দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন হলে মনোনয়ন নিয়ে তাদের মধ্যে ঘরে-ঘরে মারামারি হবে বলে মন্তব্য করেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দলীয় পরিচয়ে স্থানীয় নির্বাচন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্য আমাদের দেশে একটা বিশাল বানিজ্য। আর দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন হলে মনোনয়নে হবে বিরাট বানিজ্য। মনোনয়ন নিয়ে ঘরে-ঘরে মারামারি হবে।
তিনি বলেন, আমি এখনও জানিনা আইনটির মধ্যে কি কি প্রতিবন্ধকতা আছে। দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করা নিয়ে সরকার কারো সাথে আলোচনাও করেননি। আমি বলবনা এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে এ মুহুর্তে এটার প্রয়োজন নেই।
সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত কয়েক বছরে জনগণ ভোটের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই তারা এখন আগেরমত ভোট দিতে যায়না। আর আমরাও আমাদের নির্বাচন পদ্ধতিকে পরিস্কার করতে পারিনি। যতটা করা হয়েছিল এখন তাও পেছনে পড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যদি স্বচ্ছতা না আসে তাহলে এটা করাটা ঝামেলা হয়ে যাবে। তাই আমি সরকারের কাছে বলবো এটা করলে কি সমস্যা হবে এবং কি লাভ হবে তা নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করুন। এটা এখন করা জরুরী নয়। এটা আগে টেস্ট করা দরকার।
গোলটেবিল বৈঠকে সু-শাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করার যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাইনা। এতেকরে ৫ই জানুয়ারীর পর থেকে দেশে যে গণতন্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে তারও কবর দেয়া হবে।
বদিউল আলম বলেন, এ পদ্ধতিতে সরকারের বিরোধীরা নির্বাচন করতে পারবে কি না আমার সন্দেহ। বিরোধীরা মনোনয়ন নিতে পারলেও হয়তো ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেনা বলে আমার মনে হয়।
তিনি বলেন, আমরা একবার প্রতারিত হয়েছি ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সময়। তখন বলা হয়েছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এটা একটা রেকর্ড। দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন করার মাধ্যমে আমরা আরেকবার প্রতারিত হতে চলেছি। কিন্তু আমরা আরেকবার প্রতারিত হতে চাই না।
বদিউল আলম বলেন, গত কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রপতি বলেছেন বর্তমানে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে ডুকে গেছে। আমার প্রশ্ন হল, এটা কিভাবে হল? এটা হয়েছে দলগুলোর কারণে। টাকার বিনিময়ে দলগুলো ব্যবসায়ীদের মনোনয়ন দেয়।
দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচন দেশের বিপর্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা সরকারের একটা অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারের পুনঃ বিবেচনা করা উচিৎ।
এমএ





