‘লুটপাট দুর্নীতির বিচারের ডরে নিবার্চন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ’ এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা অনেক খুন খারাপি, লুটপাট করছে সে কারণে মানুষের ভয়ে নিবার্চন দিতে চায় না। তারা জানে, নিবার্চন দিলে মানুষ কিভাবে প্রত্যাখ্যান করবে, সিটি করপোরেশন নিবার্চনে তা দেখিয়ে দিয়েছে। যদি সুষ্ঠু ভাবে নিবার্চনটা হতে পারত, মানুষ সত্যিকারে জবাব দিত। তাদের মুখে জুতো মানুষ মারত।

হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনালে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ইসলামী ঐক্য জোটের ইফতার দোয়া ও মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা ৪৩ মিনিটে তিনি যোগ দেন।

ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদেশীরাও জানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের ব্যবস্থা করার জন্য বলেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এত লুটপাট করেছে। মানুষের ভয়ে এখন তারা নিবার্চন দিতে ভয় পায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশ আজকে কারাগারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা কারাগারে বন্দি। আর আওয়ামী লীগের লোকেরা যতই চুরি চামারি করুক তারা বহাল তবিয়তে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিচারবিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। সুবিচার পাওয়া যায় না। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের জেলে পুড়ে মরতে হয়। আওয়ামী লীগের লোকেরা ফ্রি থাকে; তাদের জেলে দেওয়া হয় না। আর তাদের মন্ত্রীরা লুটপাট করছে। তাদের এগুলো কী অপরাধ নয়? তারা আওয়ামী লীগের লোক বলে মাফ পেয়ে যায়।

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মহিলারা ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপধ নয়। আমরা চাই দেশের মানুষ ভালো থাকুক, নিরাপধে থাকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ঢাকা শহর দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। আমরা যারা ঢাকা শহরে থাকি তারা কোনো রকম আছে। গ্রামের কথা চিন্তা করুন। তারা বিচার পাচ্ছে না। অসহায় জীবন যাপন করছেন। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে। এয়ারপোর্ট থেকে যেতে না পেরে জাহাজে করে যেতে চেষ্টা করে। এখানেও আওয়ামী লীগের দালাল ও পুলিশ জড়িত রয়েছে। সাগরে ভাসতে কোথাও জায়গায় পাচ্ছে না। বাংলাদেশেও তাদের জায়গা নেই।

সাবেক প্রধানমন্ত্র বলেন, দেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে মরছে। আর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে জোট শরিকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি।

এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাৎ হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব খন্দকার গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, খেলাফত মজলিসের গোলাম আকবর।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে ইফতারে যোগ দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

ইসলামী ঐক্য জোট নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক মুপতি মোহাম্মদ তৈয়্যব হোসোইন সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ইফতারের আগে টেবিলে টেবিলে ঘুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এমএইচ/জেডআই