শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মন্তব্যের জের ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরো বলেন খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে থেকে সরিয়ে দিতেই রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে কৃষক দলের প্রতিনিধি সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা পরিহাস ছাড়া কিছু নয়। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের (সরকার) টনক নড়ে যায়। সে জন্য তাকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সরকারের অনুমোদন নিয়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেছেন মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী নামের এক আইনজীবী। সোমবার ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। আজকে বলা হয়, এতো লাখ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, ‘তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না’।

এরপর ২৩ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি।

এআই