বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার একদিকে নিজেদের কর্মীদের দিয়ে গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে বিরোধী দলের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে কথিত ক্রসফায়ারের  নামে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের  বিরোধী  দলের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে নৃশংসতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এভাবে একের পর এক হত্যাকান্ড, গ্রেফতার, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে গণআন্দোলনকে স্তিমিত করার যে নীল নকশা সরকার করে চলেছে জনগণের কাঠগড়ায় একদিন অবশ্যই এর বিচার হবে।

পতন আসন্ন জেনেই গুম, খুন, মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে নিঃশেষ করে দেয়ার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সরকার। কিন্তু পৃথিবীর কোন স্বৈরাচারী সরকারই এভাবে জুলুম-নির্যাতন করে ক্ষমতায় স্থায়ী হতে পারেনি, অবৈধ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারও পারবে না।

সরকারকে গুম-খুনের রাজনীতি ছেড়ে রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান রাজনৈতিক ভাবেই করার আহ্বান জানিয়ে মহানগরী আমির বলেন, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে  বনিা প্রতদিন্দীতায় ১৫৩ জনরে বজিয় সহ ৫ শতাংশ ভোটের মালিকানা নিয়ে ৯৫ শতাংশ জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

রংপুরের মিঠাপুকুরের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মারজানকে গ্রেফতারের পর ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখানো তাকে কোর্টে হাজির করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তার স্বামীকে ফিরিয়ে দেবার আহ্বান জানিয়েছেন।

এভাবে বাকশালী কায়দায় সরকার পরিচালনা করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না। সরকারের স্বৈরাচারী আচরণে অতিষ্ট জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। সময় থাকতে জনদাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হবে।

আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহী ভূমিকার কারণে এসব বাহিনীর প্রতি জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে উল্লেখ করে মহানগরী আমীর বলেন, জনগণের তীব্র আন্দোলনে ভীত সরকার এখন বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। আন্দোলন দমাতে এখন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে কথিত ক্রসফায়ারের নামে প্রতিদিনই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। র‌্যাব-পুলিশ ও ডিবির কথিত বন্দুকযুদ্ধে কেবল বিরোধী নেতাকর্মীদেরই হত্যা করা হচ্ছে না, নির্মম হত্যাকান্ড থেকে সাধারণ মানুষও বাদ পড়ছে না।

গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজনের লাশ পাওয়া গেছে, যারা আইন শৃংখলা বাহনিীর   কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। আজও রাজধানীর ভাটারা থেকে ৩ জন জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশী অভিযানের কারণে তারা সারারাত বাহিরে অবস্থান করে সকালে বাড়ি ফিরলে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আটক বাণিজ্য, নির্বিচারে গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে পায়ে গুলি করাসহ নির্মম নির্যাতন, বাসা থেকে ধরে নিয়ে কথিত ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকান্ডে জনগণ এখন প্রতিমূহূর্ত শঙ্কা ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিনানিপাত করছে। 

তিনি আরো বলেন, সরকারের তীব্র বাঁধা, জুলুম-নির্যাতন, গণগ্রেফতার সত্ত্বেও আজ উত্তরা, মতিঝিল, পল্টন, শনির আখড়া, কদমতলী, ডেমরা, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, কোতয়ালীসহ বিভিন্ন থানা ও এলাকায় অবরোধরে  সমর্থনে জামায়াতের কর্মীরা মিছিল ও রাজপথ অবরোধ করে।

সরকার পতনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, সাংবাদিক, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক ও ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।

এছাড়া অবৈধ সরকার পতনের দাবীতে ২০ দলের আহ্বানে লাগাতার অবরোধের প্রতিটি কর্মসূচীতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগরবাসীকে অভিনন্দন জানান মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এসএইচ