মহাজোটের শরিকদের মধ্যে যে টানাপড়েন দেখছেন বিএনপি জোটের শরিক জেএসডির প্রধান আ স ম আব্দুর রব।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন, জোটের মধ্যে ‘বিভেদের’ কারণে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহিংসতা সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা বিএনপি কর্মীদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে লালমনিরহাটে যায়া।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীও।

তিনি আজ সোমবার সকাল ১১টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মো: আমজাদ হোসেন সরকারসহ রংপুর, লালমনিরহাট জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা।

রব এসময় আরো বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউই ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এসব ধর্ষকের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা।’

তিনি বলেন, ‘অসাংবিধানিকভাবে নির্বাচনী তামাশার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে একক আধিপত্য বিস্তার করার কারণে মহাজোটের শরীকদের ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। যা আগামীতে আরো অবনতির দিকে যাবে এবং এর ফলে একটা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

এর ফলে আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না। এমনকি কোনোরকম রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়াই আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে পালাতে বাধ্য হবে। এখনই যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে চুনোপুটি কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হচ্ছে।

এর ফলে প্রকৃত মাদকসম্রাট তথা রাঘব বোয়ালরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। যা তাদের জন্য এক সময় বুমেরাং হয়ে দেখা দিবে।’

‘পাশাপাশি বহির্বিশ্ব তথা জাতিসংঘসহ দাতা সংস্থাগুলোর চাপের মুখে সরকার কুটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু তা কোনোভাবেই ফলপ্রসূ হবে না। এতে বোঝা যায় সরকার তাদের অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার অপচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য কূটনীতিকদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন’, বলেন রব।

এএস