সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীতে ২২ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামী ২৬ অক্টোবর দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীতে মোট ৬ টি টিম নগরীর বিভিন্ন স্পটে ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করে।
এছাড়াও রাজধানীর বাইরে দেশের সকল বিভাগীয় শহরেও একই দাবিতে বিভিন্ন স্পটে গণসংযোগ ও মতবিনিময় কর্মসূচী পালিত হয়।
শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকার কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সূত্রাপুর, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল, কোতয়ালী ও বেফাকসহ বড় বড় কওমী মাদ্রাসা ও বিভিন্ন মারকাজে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে নেতৃত্ব দেন সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের মহাসচীব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান।
উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী ও মাওলানা আবু জাফর কাসেমীসহ উলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ।
গণসংযোগ শেষে নেতৃবৃন্দ বেফাক মহাসচীব মাওলানা আব্দুল জব্বারসহ আলেম-উলামাদের সাথে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলত শাস্তি অন্যথায় আগামী ২৬ অক্টোবর সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়।
অপরদিকে যুগ্মমহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান আল মাদানীর নেতৃত্বে অপর একটি দল রাজধানীর হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহম্মদপুর, মিরপুর, কলাবাগান ও ফার্মগেইটসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদের খতিবসহ বিভিন্ন মার্কাজে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শর্ষীনার পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি মাসউদুর রহমান ও মুফতি জোবায়ের আহমদসহ উলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আবু তাদের জিহাদীর নেতৃত্বে দলটি কল্যাণপুর, দারুসসালাম ও পল্লবীর বড় বড় মাদ্রাসা ও মার্কাজে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা তাজুল ইসলাম ও মুফতি সদরুদ্দীন প্রমূখ।
মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটি নগরীর উত্তরা, ভাটারা, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কামরুল হাসান, মুফতি আব্দুল গফুর ও আসলাম ফারুকী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আবু জাফর কাসেমীর নেতৃত্বে দলটি নগরীর কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর ও দোহারসহ দক্ষিণাঞ্চলে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় উলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।
মত বিনিময় সভায় মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, সরকার টালবাহানা ও ছল-চাতুরীর মাধ্যমে আত্মস্বীকৃত নাস্তিক ও মোরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে বাঁচানো ও নতুন করে পূনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু লক্ষ শহীদের রক্তে গড়া এই বাংলাদেশের দেশের পবিত্র জমিনে কোন নাস্তিক-মোরতাদের স্থান অতীতে হয় নি, আর কখনো হবেও না।
তিনি ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার পরিহার করে গণধিকৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আহবান জানান।
অন্যথায় তৌহিদী জনতা আগামী ২৬ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে নাস্তিক-মোরতাদদের সমুচিত জবাব দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী মুখে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা ফলাও করে প্রচার করলেও তাদের কাছে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ মোটেই নিরাপদ নয়। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন তারা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মনোগ্রাম থেকে থেকে পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘ ইকরা বিসমি রাব্বিকাল লাজি খালাক’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে ‘ রাব্বি জিদনী ইলমা’, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে ‘ মুসলিম ’ ও কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে ‘ ইসলাম ’ তুলে দিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই সুযোগ পেলেই ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে কটুক্তি করতে দেখা গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকার এসব নাস্তিক-মুরতাদদের কোন ব্যবস্থা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা অতিউৎসাহী প্রায়শই নির্বিঘে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এতে প্রমান হয় আওয়ামী লীগই নাস্তিক মুরতাদদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
ড. মাওলানা খলিলুর রহমান আল মাদানী বলেন, ইসলাম, মহানবী (সা.) ও হজ্জ নিয়ে কটুক্তি করে মোরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দীকি তৌহিদী জনতার ঈমান-আকিদা, বোধ-বিশ্বাস ও মূল্যবোধের উপর আঘাত হেনে ক্ষমাহীন ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছেন। তাই বাংলার পবিত্র জমিনে এই আত্মস্বীকৃত নাস্তিকের কোন স্থান হবে না।
জেএ





