ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সারা বিশ্বেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে সরকারের সংকীর্ণতার কারণে এ গুরুত্বপূর্ন বিষয়টিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠছে না।
তিনি বলেন, সরকারের সংকীর্ণতা ও দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্টি তার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন,শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয় নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, জাতির এ সময়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হল জাতির এ অবস্থায় অপরাজনীতি করা হচ্ছে। ফলে জাতির এ ক্রান্তি লগ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠছে না। সে ঐক্যে দেশের রাজনীতিক, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, পেশাজীবী সমাজ ও আমাদের আলেম-ওলামারা থাকবেন।
ফখরুল বলেন, আপনারা জানেন, এর আগেও আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের সূচনা হয়েছিল। সে সময় আমাদের আলেম-ওলামারা মসজিদে মসজিদে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সহযোগীতায় আমরা দেশ থেকে সফলভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূলও করেছি।
পরিতাপের বিষয় আজকে সরকারের একটি অংশের সঙ্গে আরেকটি অংশের কথার কোনো মিল নেই। একটি অংশ বলছে, দেশে আইএসের মত ভয়ংকর জঙ্গি গোষ্ঠির অস্তিত্ব আছে। আবার আরেকটি অংশ বলছে নেই। সবচেয়ে আশংকার বিষয় দেশে গণতন্ত্রই নেই। গণতন্ত্রহীনতার সুযোগে দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সরকারের সংকীর্ণ দলীয় মানষিকতা থেকে জঙ্গিবাদের কথা বলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাহসের সঙ্গে অতীতে সব সমস্যার সমাধান করেছে, এখনও করবে। সরকার যদি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তাহলে তারা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। সরকার যেহেতু চালকের অবস্থায় রয়েছে-সেহেতু জাতীয় ঐক্য গঠনে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত নির্বাচন দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে কেউ গ্রহণ করেনি। আমরা বারবার বলছি-একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আলোচনা প্রয়োজন। আলোচনা মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হয়।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গোটা বিষয়টিই ভেঙ্গে পড়েছে। শুধু মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নয়, সব পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের অভিযোগ আসছে। দুর্নীতি ও লুটপাট সব ব্যবস্থাপনাকে শেষ করে দিয়েছে।
এ সময় মির্জা ফখরুল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতিকরা কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ না করলে এদেশে উগ্রপন্থিরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। তখন জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হতে পারে।
এমএইচ





