গাবতলী বাস টার্মিনালের গরুর হাটের বিপরীত পাশের সড়ক ডিপজল বাস কাউন্টারে সামনে এমন আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। বুধবার রাতে প্যান্ডেলটি বানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেটিতে লোকজনে ভরপুর থাকার কথা থাকলেও কাউজে খুঁজে পাওয়া গেল না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্যান্ডেলটি তৈরি করেছে গণঅধিকার পরিষদ দারুসসালাম থানার উদোগে। সকাল থেকে প্যান্ডেলটিতে দলটির নেতাকর্মীরা থাকার কথা থাকলেও দুপুর দেড়টা নাগাদ তাদের কাউকে পাওয়া গেল না।

অন্যদিকে খানিকটা দূরে একই সড়কে দারুসসালাম থানা জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা বাঁশের খুঁটিয়ে সামিয়ানা সাটিয়ে তার নিচে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন তারা। তাদের কারও কারও মাথায় জামায়াতের লোগো সম্বলিত ক্যাপ ও ফিতা বাঁধা। বেশির ভাগ নেতাকর্মী খোশ গল্পে মশগুল।

কথা হলো বাঙলা কলেজের রাব্বি নামে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, তারা সকাল থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। এছাড়াও তাদের লোকজন বাঙলা কলেজ, আমিনবাজার, মিরপুর, মিরপুর-১০ ও ২ নম্বর ও পল্লবী ছাড়াও দারুস সালাম এলাকার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। তবে গাবতলী মোড়ে ট্রাফিক বক্সের বিপরীত সড়কে দারুসসালাম জামায়াতের পক্ষ থেকে বানানো প্যাণ্ডেলে তারা অবস্থান করছেন।

এই ছাত্রশিবির কর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দল দারুসসালাম থানার পক্ষে একটি মিছিল সড়কের বিপরীত পাশে গাবতলী বাসস্ট্যাণ্ডের সামনে দিয়ে যায়। সেই মিছিলে প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজন অংশ নেয়।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি দিলেও মাঠে নেই কেউ। তবুও সকাল থেকে তাদের প্রতিহত করতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেয়ারটেবিল ও সামিয়ানার নিচে চেয়ার বসিয়ে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির ছাড়াও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা।

তবে সরেজমিনে দুপুর ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত গাবতলী, মাজাররোড মোড়, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদ গেট, জাতীয় সংসদ, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর ও শাহবাগ এলাকায় লকডাউনের পক্ষে কোন লোকজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কেরানীগঞ্জ এলাকা ছাড়াও খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদলের কর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছেন। তারা মাঝে মাঝে লকডাউনের প্রতিবাদে মিছিলও করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতের কর্মীরা থানা ভিত্তিক পয়েন্টগুলোতে সামিয়ানা বানিয়ে চেয়ার বসিয়ে অবস্থান করছেন। এখনো নগরীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আজকের লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে লোকজনের মাঝে তেমন কোনো আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও বাংলামোটর, জাতীয় সংসদ ভবন, ফার্মগেট এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

গাবতলী থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল স্বাভাবিক

সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন কম ছিল। কিন্তু দুপুর নাগাদ সেটি বেড়ে চলেছে। দুপুর দেড়টার দিকে দেখা গেল, গাবতলী গরুর হাটের মোড়ে থাকা ট্রাফিক বক্সের সামনে সড়কে লোকজনের ভিড় কম। একটি একটি বাস আসছে এবং যাত্রীরা সেগুলোতে ওঠে গন্তব্যে রওনা হচ্ছে।

সেখানে দেখা যায় মানিকগঞ্জগামী সেলফি পরিবহনের বাসগুলো এসে থামছে। যাত্রীরা ধীরে সুস্থে তাতে উঠছে। সেলফির হেলপার রুমন জানালেন, তাদের মাঝে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে না। তারা সকাল থেকে অন্তত ৫০টি গাড়ি ছেড়েছেন। সেগুলো স্বাভাবকিভাবে চলাচল করছে।

তবে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানালেন, তারা সকাল থেকে যাত্রী কম পাচ্ছেন। অনেকে লকডাউনের ভয়ে সকাল থেকে গাড়ি ছাড়েনি। তবে দুপুরের পর থেকে কিছু গাড়ি চলাচল করতে শুরু করেছে।

এমএম