তাবলীগ জামায়াতের বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে উদ্বেগে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের চেয়েও এই বিশ্ব ইজতেমাই এখন সরকারের প্রধান মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ব ইজতেমায় বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের লাখ লাখ কর্মী টঙ্গীতে অবস্থান নিয়েছেন। এসব কর্মীরা ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতের পর (রোববার) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে যাত্রা করতে পারেন।
পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ধরনের নাশকতা চালাতে পারেন বলেও আশংকা আওয়ামী লীগ নেতাদের। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সরকার বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এমন তথ্য দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জানানো হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার দলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এক ঘন্টা ৫০ মিনিটের ওই বৈঠকে বিশ্ব ইজতেমার এ বিষয়টি নেতাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। যদি আখেরি মোনাজাত শেষে বিএনপি-জামায়াতের লাখ লাখ নেতাকর্মী গুলশানের দিকে চলে আসেন, তাহলে কীভাবে তা মোকাবেলা করা যায়- তা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। তাছাড়া বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বৈঠকের শুরু থেকে সেখানে প্রায় অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত থকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কিছুই জানানো হয়নি। বৈঠক শেষে কার্যালয়ের কর্মকর্তা শামীম হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন-আজকের সভার বিষয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলন করা হবে না।
বৈঠকে উপস্থিত এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় যাতে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দশ দেয়া হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে শোনা যাচ্ছে, প্রথম পর্বের ইজতেমার পরদিন সোমবার ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দেবে বিএনপি। এজন্য তারা পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবে না।
ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের সমাবেশের উদ্যোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে তুলবে। বিরোধী দল চাইছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদটি যত ওপরে ওঠানো যায়-এ বিষটিও আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্বেগের কারণ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, স্বাস্থ্য বিষায়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ডাবলু, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যিনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এমআর, জেএ





