বাবরী মসজিদ সংক্রান্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদ। তিনি বলেন, এ রায় ভারতের মুসলমানসহ মুসলিম উম্মাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ সোমবার (১১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ভারতের একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ধর্মীয় ও মানবাধিকার সনদ এবং ভারতীয় আইন লংঘন করে রাজনৈতিক শক্তির জোরে ৪৬০ বছরের পুরনো বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত প্রকারান্তরে ঐ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অন্যায় কাজকেই বৈধতা দিল। এতে মুসলিম উম্মাহ মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।
জামায়াত আমীর বলেন, ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদরাও বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দিরের কোন নিদর্শন আবিষ্কার করতে পারেনি। সুপ্রিম কোর্ট নিজেও একথা মেনে নিয়েছে এবং পুরাতাত্ত্বিক রিপোর্ট তাপ্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরেও বাবরী মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের দাবি সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক এবং ন্যায়নীতির পরিপন্থী।
জামায়াত আমীর আরো বলেন, ভারতের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিসহ একাধিক বিচারপতি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাদের বক্তব্যে বলেছেন যে, ‘ইতিহাস পুননির্মাণ করা আদালতের কাজ নয়। আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরী মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোনো অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দেয়নি। এই রায় আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে দেয়া হয়নি।’
ভারতীয় বিচারপতিদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে এ রায় প্রদান করেছে। এ রায় শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারত সরকার জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ধর্মীয় ও মানবাধিকার সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বাবরী মসজিদের স্থানে সরকারি দায়িত্বে মসজিদ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করে মুসলমানদের ধর্মীয় ন্যায্য অধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন।” (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)





