সাংবাদিক শওকত মাহমুদ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ অভিযোগ করেন।
রিপন বলেন, ১৫ আগস্টের শেখ মুজিব হত্যা নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে মিথ্যা কল্পকাহিনী তৈরি করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুগতরা প্রকাশ করে।
এবার আওয়ামী লীগের দুই নেতার বক্তব্য ফুটে উঠেছে শেখ মজিব হত্যায় আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল।
তাই এ হত্যায় পুন:তদন্ত করা প্রয়োজন। তাতে এ হত্যাকান্ডে কারা জড়িত ছিল তা বের হয়ে আসবে।
বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পুন:তদন্ত আওয়ামী লীগের নিজেদের ঘর থেকে তদন্ত শুরু হওয়া উচিত।
সম্প্রতি একটি বেসরকারী টেলিভিশনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও সাবেক সেনা প্রধান কে এম শফিউল্লাহকে নিয়ে একটি টকশো প্রচারিত হয়েছে।
টকশোতে ফজলুল হক মনি সাবেক এই সেনা প্রধানকে মুজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।
রিপন বলেন, তৎকালীণ প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান তলব করার পরও কেন নিশ্চুপ ছিলেন কে এম শফিউল্লাহ।
পরে কেনই বা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে না গিয়ে মুশতাক সরকারের আনুগত্য দেখিয়েছেন। এসব বিয়ষের তদন্ত হওয়া উচিত।
পাশাপাশি বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও রক্ষী বাহিনী কেন নিশ্চুপ ছিলো বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করার দাবি জানান।
এছাড়া সেসময় সংশ্লিষ্ট কাউকেই দায়ী না করে কেন জিয়াউর রহমানকেই দোষারোপ করা হচ্ছে সেই বিষয়গুলো পুন:তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ করলে শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা হবে না। সন্মান প্রদর্শন করতে হরে প্রকৃত খুনিদের ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।
রিপন মনে করেন, কোন রাজনৈতিক শক্তি এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছাড়া এরকম হত্যাকান্ড অসম্ভব। তৎকালীন সময়ে কারা কারা জড়িত ছিলে তা তদন্তে আসা উচিত।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে অনেক মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংবাদ প্রচার করেছে।
যদি জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা না করতেন, বার বার ক্ষমতায় না আসতেন, জনগণের হ্নদয়ের মনিকোঠায় আস্থা অর্জন করতে না পারতেন তাহলে কেউ তাকে নিয়ে মাথা ঘামাতো না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপন।
তিনি বলেন, নিম্নআদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপির প্রবীন এই নেতা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিকে শওকত মাহমুদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এই দু্টি গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
একই সঙ্গে আমরা আদালতকে বলতে চাই আমাদের অসুস্থ বন্দি নেতাদের প্রতি সুবিচার করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করুন।
এতে বিএনপির নেতারা বিচার প্রক্রিয়া ও আদালতকে সহযোগীতা করবে। এবং ন্যায় বিচারের পর এর মধ্য দিয়েই উন্মােচন হবে বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।
এমএইচ/এসএইচ





