আগামী বছরের (২০২১) মধ্যেই ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য- ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বৈষম্য বিলোপ আইন আগামী বছর আইন হিসেবে রূপান্তরিত হবে দেখতে পাবেন। আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, কারণ এটা শেষ ধাপে এসেছে। আগামী বছর লেজিসলেটিভ ফর্মালিটিজগুলো সম্পন্ন করার বছর। আমি ওই বছরই লেজিসলেটিভ ফর্মালিটিজগুলো কমপ্লিট করে দেব।’
‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব বৈষম্য বিলোপে বেশ আগে একটি আইনের খসড়া করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেছি।’
আনিসুল হক বলেন, “বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকারের মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করে ধারণ করে। আমরা মানবাধিকার নিয়ে গতানুগতিকভাবে যেভাবে চিন্তা করছিলাম করোনাভাইরাস আজকে সেই গতানুগতিক চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে। সেজন্যই মনে হয়, ‘ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার’ স্লোগান আবিষ্কৃত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারের লঙ্ঘনগুলো আমরা দেখছি সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে হচ্ছে। সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করার জন্য যে ভৌত অবকাঠামো প্রয়োজন সেগুলো কিন্তু আমরা সব সময় দিয়ে যাচ্ছি। প্রশ্ন উঠেছিল আর্থিক স্বাধীনতা নেই বলে কমিশনের ক্যাটেগরি উন্নয়ন হয়নি। তাদের সঙ্গে আমার যখন বৈঠক হয় তখন আমি পরিষ্কারভাবে আর্থিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে দিয়েছি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী, যেভাবে প্রসেস ফর্মালিটি যেভাবে করতে হয়, সেটা আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করতে হয়। ততটুকুই আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন।’
সরকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দিয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিনের কথা বলা হচ্ছে, যদি সেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সনদপ্রাপ্ত হয় তবে সেটা আমরা নেব। ৩ কোটি টিকার অর্ডার ইতোমধ্যে আমরা দিয়েছি। আসলে সেগুলোর বিনামূল্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগণকে দেব। পাশাপাশি ভ্যাকসিন আমদানিরও উদ্যোগ নিচ্ছি যাতে বিত্তবানরা সেটা পায়। চুক্তি করা অক্সফোর্ডের টিকার অ্যালার্জির রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি, সেটার পরীক্ষা এখনও হয়নি। আমরা নিশ্চয়ই সেইসব সতর্কতাও অবলম্বন করব।’
‘এখানে (আলোচনা সভায়) বলা হয়েছে, ঘরে মধ্যে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন বেড়েছে। আমি বলতে চাই এগুলো বেড়েছে, এগুলো মোকাবেলা করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হবে প্রয়োজন, সেই সব পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আমরা এইসব অপরাধ সহ্য করব না। এই বার্তা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কোভিড পরিস্থিতিতেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে আমাদের কোনো আপসকামিতা হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের সাজা বাড়ানো হয়েছে কিন্তু এ কথা আমি কখনও বলিনি যে, সাজা বাড়ালে এই অপরাধ চলে যাবে। এই অপরাধ চলে যাওয়ার জন্য পাশাপাশি কী করতে হবে সেই পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি।’
সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘যেটা তারা পালন করা শুরু করেছে। এই প্রোগ্রাম যদি চালিয়ে যান আমার মনে হয় তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন। সরকারকে এ সব অপরাধ কমানোর জন্য সাহায্য করতে পারবেন। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এমন কোন বার্তা যদি কমিশন সরকারের কাঠে পৌঁছায় আমরা অবশ্যই সেটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেন আমরা সিভিল সোসাইটিকে যথেষ্ট স্পেস দেই না। আপনাদের আমি বলতে চাই বাংলাদেশে ৩১টি স্বাধীন টিভি চ্যানেল আছে, রেডিওর কথা বাদ দেন। এই ৩১টি টিভি চ্যানেলে যথেষ্ট টক শো হয়, সেখানে যথেষ্ট সরকারের সমালোচনা নয়। আমরা সরকারের যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা গ্রহণ করি। সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করি এবং নেই।’
তিনি বলেন, ‘আর যদি এমন হয়, আমাদের সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের অস্তিত্ব নিয়ে সেখানে এমন আলাপ হয়, যেটা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে সেখানে আমার মনে হয়, যে কোনো দেশ, যে কোনো সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সচেষ্ট হবে। আমরা ঠিক সেভাবেই আমাদের মৌলিক নীতিগুলোতে আঘাত না করে সরকারের সমালোচনা করা হয়, আমরা সেখানে স্পেস লিমিট করি না। আমরা বরং সেখানে স্পেস আরও ওয়াইডেন করি।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামাল উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
এমআর





