জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, 'দেশে এক গভীর রাজনৈতিক সংকট চলছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা। ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীগণ হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন এক সংকটজনক অবস্থায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আয়োজন চলছে।'

সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান থাকলেও এ তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এ তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীগণ নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সে ব্যাপারে জনগণের আশঙ্কা কাটছে না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীগণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীগণ ভয়, ভীতি, দ্বিধা ও সংকোচের মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। ২০ দলীয় জোটের সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনতাই এবং সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর জন্য নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা জরুরি।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গতকাল (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত চাঁদপুর পৌরসভা ও ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভা নির্বাচনে এবং রংপুর সদরের দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, গুলি ও ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। রংপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ২ জন নিহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ছিল মেরেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সহযোগিতা করেছে। দেশবাসী মনে করে বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং ২০ দলীয় জোটের প্রায় দুইশত নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন খুলনা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এড. মোস্তাফিজুর রহমান ও সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য জনাব আবদুল গাফ্ফার। গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কেএইচ