সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, ‘সহিংসতা বন্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু পুলিশ যখন বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে তখন কেন আদালতের কোন রুল নেই?’

একটি লোক অপরাধ করলে তার বিচার করে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন বিচার না করেই নির্বিচারে মানুষ মারছে ।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সেমিনার হলে ‘ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশ ’(ড্যাব) আয়োজিত, ‘সকল রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দ্রুত সংলাপ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।’

গণতন্ত্র না থাকলে মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার থাকেনা মন্তব্য করে রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মানুষ মারা এতো সহয হয়ে গেছে যা বাংলাদেশে এর আগে কখনও দেখিনি।’

খালেদা জিয়ার সাথে সরকার অমানবিক আচরন করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জেলে যদি মানুষ থাকে তাকেও খাবার দেওয়া হয়।

কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সনকে খাবারও দেওয়া হচ্ছে না। এটা সরকারের কি ধরনের অমানবিক আচরন? মানবাধিকার কর্মীদের এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দরজা খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার বা পুলিশ নিয়েছে। কিন্তু এ বাড়ির ভেতরের মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা কে নেবে?’

গাজী বলেন, ‘পেট্রোল বোমার বিরুদ্ধে মিডিয়াকে সোচ্চার হতে দেখেছি। কিন্তু ক্রসফায়ারে মানুষ মারার বিরুদ্ধে মিডিয়ার কোন সরব উপস্থিতি দেখছি না।’

‘বর্তমানে গণমাধ্যম ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা ভোগ করছে’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘যদি স্বাধীনতাই ভোগ করে তাহলে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামী টেলিভিশন, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ কেন?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের জনগন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ৭১ এবং ৯০ সালে রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছে। কিন্তু এই দেশে এখন খালেদা খাবার ছাড়া অবরুদ্ধ আছে, পুলিশ মানুষ হত্যা করছে এটা কেমন গণতন্ত্র?’

চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন বলে চালালে কোন লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসে কখনও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বৃথা যায়নি। এখনও বৃথা যাবে না।’

অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচনই চলমান এই সংকটের থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সারাদেশ লাশের রাজ্যে পরিনত হয়েছে উল্লেখ করে প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সম্পাদক কাদের গনি চেীধুরী বলেন, ‘এই সরকার বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতায় চিরদিন থাকতে চায়, কিন্তু সরকার জানে য়ে চলমান আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।’

বাংলাদেশে যদি কোন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগকেই নিশিদ্ধ করতে হবে। কারন আওয়ামী লীগ ও গনতন্ত্র এক সাথে চলতে পারে না্ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- ড্যাবের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, শহিদুল ইসলাম বাহার, যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ওবায়দুল কবীর খান প্রমুখ।

মুকুল/এসএইচ