ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির কাছে ‘এক্সপাঞ্জ পিটিশন’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রায়ের কপি নিয়ে দুই ঘণ্টার আলোচনায় ১৫ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার বক্তব্য শোনেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে নিয়মিত এজেন্ডা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে রায়ের কপি উত্থাপন করেন।

তিনি রায়ের বিভিন্ন পয়েন্ট উল্লেখ করে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু বিষয় টেনে আনা হয়েছে, যা প্রয়োজন ছিল না। যেমন পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংশোধনীও টেনে আনা হয়েছে। এ রায়ে সংসদকে ‘ইমম্যাচিউরড’ বলা হয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলা হয়েছে। এ ছাড়াও রায়ে আরো অনেক ‘আপত্তিকর’ বিষয় আনা হয়েছে। আদালত বিচার্যের বাইরে গিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

আইনমন্ত্রীর উপস্থাপনার পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে উল্লিখিত বক্তব্যগুলো অযাচিত, আপত্তিকর ও অবান্তর। এজন্য কিছু বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করতে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদন করা উচিত হবে। পাশাপাশি জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে নতুন আইন করার বিষয়েও একমত হন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

এক সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, রায়ের কপিতে যেসব আপত্তিকর বিষয় আছে সেসব বিষয় নিয়ে আইনমন্ত্রী আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন।

এসব বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সভা শেষে আলোচনা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, এই সংসদ ‘ইমম্যাচিউরড’ এবং নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ।’ আমি বলতে চাই, সংসদ যদি অপরিপক্ব হয়, তাহলে সংসদ সদস্যরাও অপরিপক্ব। এই সংসদের সদস্যরাই কিন্তু ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছেন। তাহলে তিনিও তো ‘ইমম্যাচিউরড’ ও তার নিয়োগও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। সেই প্রশ্নবিদ্ধ প্রেসিডেন্ট দ্বারা নির্বাচিতদের আমি কি বলবো?।

একাধিক মন্ত্রী সূত্রে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সিলেটে দেয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য সমর্থন করেন একাধিক মন্ত্রী। মন্ত্রিসভার সদস্যরা শেষ পর্যন্ত আদালতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে জাতীয় সংসদে নতুন আইন তৈরির পক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে হ্যাঁ বা না কিছুই বলেননি।

এমবি