রাজধানীর শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আনা হতে পারে এমন খবর আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিলো। সে কারণে হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার কথা রয়েছে, যে কারণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আজকে ম্যাডামকে হাসপাতালে আনা হবে। হাসপাতালে ৬ তলার কেবিনে রাখার কথা বলা হয়েছে।’
বিএনপির সহ-স্থাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে বিনা চিকিৎসায় অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার বয়স ৭৩ বছর, তিনি দেশের একজন সম্মানিত সিনিয়র সিটিজেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশনেত্রী ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত। তার বাম হাত, বাম পায়ের ব্যথা গুরুতর। ব্যথা প্রশমনের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আধুনিক ফিজিওথেরাপি। অথচ বর্তমানে তার চলাফেরা অনেকটাই সীমিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের ৮ ই নভেম্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে শেষ চিকিৎসা প্রদান করেন। দীর্ঘ সারে তিন মাসে তার কোনো ফলোআপ হয়নি। এমনকি কারা চিকিৎসকরাও তাকে নিয়মিত দেখতে যেতেন না বলে অভিযোগ শোনা যায়, যা সুস্পষ্ট মানবধিকার লঙ্ঘন। বিনা চিকিৎসায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কাজ করছে। কিছু দিন আগে আদালতের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দেখতে যান। তার অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তারা কিছু পরীক্ষা করা এবং হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ প্রদান করেন।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপি নেত্রী।
জেড





