বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, যারা শতকরা ৫ ভাগ ভোটের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে তাদেরকে নাশকতা, সন্ত্রাস, হানাহানী, খুনোখুনীর ওপর নির্ভর করেই দেশ চালাতে হয়। কারণ তাদের পেছনে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় দলের সহ-সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, রক্তাক্ত হানাহানি আর নাশকতা উৎপাদনের কারখানা হচ্ছে এই অবৈধ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। এর বহু দৃষ্টান্ত জনগণের সামনে পরিস্কার। নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন এবং ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলাটা আর বর্তমানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন নিক্ষেপ করার ঘটনা একেবারে মিলে যায়।

সুতরাং নাশকতার চর্চাকারী আওয়ামী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর তীব্র হিংসাপরায়ণতাই এদের ধর্ম, আর তাই এই অবৈধ শক্তির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা চলমান আন্দোলন নির্দয় দলন-পীড়ণের মধ্যেও দমিয়ে রাখতে না পেরে তারা আবারও ৫ জানুয়ারির পূর্বাপর নিজেরাই নাশকতা সৃষ্টি করে সেটি আন্দোলনকারী বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অপপ্রচারের ঢাকঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে।

রিজভী আহমেদ আরও বলেন, এই অবৈধ সরকারের কোনো বৈধতা নেই, আর এ কারনেই বিরোধী মত, সমালোচনা এবং বিরোধী দল উচ্ছেদ অভিযানে এরা এখন সকল শক্তি নিয়োগ করেছে। এজন্য তারা নিজেদের অবৈধ স্বত্ত্বাকে রক্ষা করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু কোন বর্বরোচিত আক্রমণই বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই ভোটারবিহীন সরকারের নিত্য সঙ্গী হচ্ছে অবিরাম মিথ্যাচার।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন বলছেন-দেশে নাকি তিনি গণতন্ত্র দিয়েছেন, এক অদ্ভুত মানবী হচ্ছেন আমাদের ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি’র প্রধান কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে বালুর ট্রাক, ইটের ট্রাকসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অসংখ্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করে দেশব্যাপী নির্বিচারে গ্রেফতার আর ব্যাপক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে, গণমাধ্যমে বিরোধীদের বক্তব্য বন্ধ করে দিয়ে এক নতুন ধরণের গণতন্ত্র চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য এ ধরণের একদলীয় গণতন্ত্র তাদের ঐতিহ্য।

রিজভী আহমেদ গভীর আক্ষেপ করে আরো বলেন, দেশের জনগণ এখন শ্বাসরুদ্ধ। চারিদিকে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ। এই অবৈধ সরকার শান্তি, সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা নির্বাসনে পাঠিয়ে নিজের দেশের লোককেই লাঠিপেটা করতে বেশী পারঙ্গম হয়ে উঠেছে। অমানবিক নাশকতা সৃষ্টি করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেও জনগণ তা কখনোই বিশ্বাস করবে না। যদিও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সকল গণমাধ্যম দখল করে সেগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ন্যায় যখন যা ইচ্ছা তাই বলছেন, তথাপিও জনগণই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিচারক, জনগণ এই দু:শাসনের অত্যাচারীদের বিচার করবেই।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবিদ্ধ করার প্রতিবাদে দেশব্যাপী আজকের ১২ ঘন্টার হরতাল আবারও সফল করার জন্য তিনি দেশের আপামর জনসাধারণকে আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এমএইচ, জেএ

জেএ