যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’ পালন করতে ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণের সংগঠনের সকল অধস্তন শাখা ও নগরবাসীর প্রতি নিম্নোক্ত কর্মসূচী পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত কাল (১৯ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় এ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকে সুপ্রসস্ত করেছিল। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এমন আত্মোৎসর্গের ঘটনা আর দ্বিতীয়টি দেখা যায় না। মূলত বীর শহীদানের রক্ত ও কোরবানীর বিনিময়ে ‘বাংলা’ রাষ্ট্রভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদায় আজ প্রতিষ্ঠিত। তাই জাতি এসব বীর শহীদানদের সব সময় পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। ”
তিনি বলেন, “অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হলেও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষা চালু করা সম্ভব হয়নি। দেশের উচ্চ আদালতে এখনো ইংরেজী ভাষায় রায় লেখা হয়। এমনকি চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষার গ্রন্থগুলো এখনো বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়নি। তাই বাংলা ভাষাকে সর্ব স্তরে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করে বিজাতীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তাহলেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন সফল ও স্বার্থক হবে।”
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদানের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমাদের জাতীয় জীবনের বড় অর্জন। শুধু ভাষার জন্য এমন ত্যাগ ও কোরবানীর ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে নজীরবিহীন। মূলত ২১ ফেব্রুয়ারির মহান শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। তাই ভাষা শহীদদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এবং জাতি তাদেরকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।”
তিনি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে এখনো ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও স্বজনদের পূনর্বাসন করা হয়নি। এমন কি রাজনৈতিক স্বার্থে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের অর্ধশতাব্দি অতিক্রান্ত হলেও আজও সকল পর্যায়ে মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। সরকারী ভাবে মাতৃভাষা বাংলা উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষনার ক্ষেত্রে ব্যবহার না করায় আমাদেরকে এখনো বিদেশী ভাষার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, যা কোন ভাবেই আমাদের কাছে কাম্য নয়। ”
তিনি রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলা ভাষা প্রতিষ্টার অগ্রজ সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আজমসহ ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মহান ভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য নিন্মোক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনের অধস্তন শাখা সহ সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচী
(এক) ২০ ফেব্রুয়ারি-মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
(দুই) ২১-২৮ ফেব্রুয়ারি-ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচী পালন।
(তিন) থানায় থানায় আলোচনা সভা ও দোয়া।
এমবি





