বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য এদেশের নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নানা রকম অশুভ কর্মকান্ডে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আজ এক মিলনায়নে ছাত্রশিবির বরিশাল পূর্ব অঞ্চলের সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয়ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ডা: মুজাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় ও বরিশাল মহানগরী সভাপতি জাবের হাসানের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মু: মাহফুজুল হক, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক কামরুল হাসান, সিলেট মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম সহ মহানগরী ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন,সকল ধরনের বৈষম্য অবসানের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে জন্ম নেওয়া স্বাধীন দেশটি আজ বৈষম্যর জালে আবদ্ধ। বর্তমানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের চিত্র বাংলাদেশে সামাজিক বৈসাদৃশ্যের এক নগ্ন রূপ। একদিকে সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে এক শ্রেণীর বিত্তবানদের হাতে, অপরদিকে শোষণ ও বঞ্চনার কষাঘাতে জর্জরিত হচ্ছে দরিদ্র মানুষের জীবন। বেকারত্ব, খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি গরীবকে আরও গরীব বানিয়ে দিয়েছে। শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির মূল শক্তি। পৃথিবীর সব দেশে এ খাতটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে চলছে তার উল্টো চিত্র। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কারণে মেধাবীরা সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। কোটার প্রাধান্য দিয়ে মেধাবীদের কোণঠাসা করে দেয়ার নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোটা সংস্কার এখন সময়োচিত যৌক্তিক দাবী হলেও সরকারের একের পর এক শিক্ষা বিরোধী কার্যক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবীতে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার স্বীকার হয়েছে। ন্যায্য দাবী করায় ছাত্রলীগ সাধারন ছাত্রছাত্রীদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে বহু ছাত্র। ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকার দাবী মেনে নিলেও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাত্র সমাজের কাছে স্পষ্ট নয়। যদি মেধার লালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের দ্বারা মেধাবী তরুণদের সুযোগ কে প্রসারিত করতে হবে। একই সাথে অনৈতিক প্রক্রিয়া, চাকুরীতে ঘুষ, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ, উচ্চ শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক, সেকুলার পাঠ্যসূচি ও অস্বচ্ছ মেধা মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক সন্ত্রাস, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের পুলিশের হয়রানি, অস্ত্রবাজী, শিক্ষকদের দলবাজি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, সকল বৈষম্য দূরীকরণে কোরআনের আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্ম যদি কোরআনের সমাজ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে তাহলে রাষ্ট্রে ও সমাজে বৈষম্য মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তা সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি তরুণ সমাজ জনগণের প্রতি চলমান বৈষম্য অবসানে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না।
এসএম





