সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা।
বুধবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টায় তিনদিনের শোক ঘোষণা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, কোম্পানীগঞ্জের কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। উনার মৃত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হইলো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার বসুরহাট বাজারের সব ব্যবসায়ীকে কালো পতাকা উত্তোলন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
কাদের মির্জা জানিয়েছেন, আমরা কোম্পানীগঞ্জবাসী কাকে হারিয়েছি তা কেবল আমরাই জানি। মওদুদ আহমদের হাত ধরে কোম্পানীগঞ্জের সবকিছু শুরু হয়েছিলো। তিনি আমাদের সব উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথপ্রদর্শক। মওদুদ আহমদ দলমত নির্বিশেষে কোম্পানীগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাতে এক শোকবার্তায় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, কোম্পানীগঞ্জের কৃতীসন্তান মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। উনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেদ হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
গত ০২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন মওদুদ। এরপর ১০ মার্চ সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়।
এর আগে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দুই দফায় মওদুদ আহমদকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান তাঁর ফুসফুসে পানি জমে যায়। পরে এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে তাঁকে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে আছেন স্ত্রী হাসনা মওদুদ আহমেদ।
তিনি ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মায়ের নাম বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ ছিলেন চতুর্থ।
মওদুদ আহমদ আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরশাদ সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তবে এর আগে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
এমবি





