প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এগার বছর আগে তাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার পেছনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান যে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তার কোনো ‘সন্দেহ নেই’।
ওই হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “১৫ অগাস্টের ঘটনার সাথে জিয়া যেমন জড়িত ছিল, ২১ অগাস্টের ঘটনার সাথে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে জড়িত- তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেদিন আমরা সন্ত্রাসবিরোধী র্যালি করতে গিয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হই। যে গ্রেনেড যুদ্ধে ব্যবহার হয়, সেই গ্রেনেড আমাদের সভায় ছুড়ে মেরে হত্যা করা হয়।”
সেই হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হন অনেকে। বিভিন্নভাবে আহত হন বহু ব্যক্তি, যাদের অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি।
আইভী রহমানসহ নিহতদের স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হয়। আমার সামনে অনেকে রয়েছে, আমার সাথে অনেকে আছে, যারা এখনো সেই স্প্লিন্টার নিয়ে চলছে।”
বিকেল সাড়ে ৪টার পর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌঁছে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে দলের পক্ষ থেকে নেতাদের নিয়ে আবারও ফুল দেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সবাই মোনাজাতে অংশ নেন।
সেদিনের সেই সমাবেশস্থলেই আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। সেদিন যে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন, শুক্রবারও সেই গাড়িতে করেই তিনি শোকবেদীতে পৌঁছান।
আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেন, “তখন বিএনপি ক্ষমতায়। আলামত রক্ষা করা তো দূরের কথা, আলামত নষ্ট করে। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে আলামত দ্রুত নষ্ট করে।... দুটো গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়নি, সেগুলো সংরক্ষণ না করে নষ্ট করে দেয়।”
শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির মদদে ওই হামলা চালানো হয় বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছে। আর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এ হামলার তদন্ত যে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল, তা পরে আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।
২০১১ সালে সিআইডি এ মামলায় যে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ২১ অগাস্টের হামলার ‘সুষ্ঠু তদন্ত’ দাবি করে আসছে বিএনপি।
সেই সময় সরকারে থাকা এ দলটির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে নিজে নিজেকে মেরেছি। কি ন্যক্কারজনক! যারা মেরেছিল, তাদের বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্তা করে দেওয়া হল!”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র করার স্লোগান দিয়েছে, খালেদা জিয়া তাদের সমর্থন দিয়েছে।... ১৭ অগাস্ট, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করা- এটাই তাদের প্রচেষ্টা।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ এ আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন।
জেআই





