কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ করে দিয়ে দেশের রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে সংঘাতময় পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে রাজনীতিতে স্থায়ী সংঘাত সৃষ্টি হল। আমরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ডিসেম্বর বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমরা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রোববার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা মহানগরে প্রতি থানায় থানায় বেলা দুইটার পর থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই হচ্ছে আপাতত আগামী রোববারের জন্য এই কর্মসূচি। পরের কর্মসূচি এরপর ঘোষণা করব।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনগণের সক্রিয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই যে সরকার যারা আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তাদেরকে বাধ্য করব এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচন দিয়ে জনগনের সরকার গঠনে আমরা বাধ্য করব। সেই সময় জনগণের সামনে আমরা অন্তত এটুকু নিয়ে আসতে পারবো যে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সেই স্বপ্ন যেন জনগণ দেখতে পারেন।

এরআগে লন্ডন হতে স্কাইপির মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন খালেদা জিয়ার মামলায় আপীল বিভাগের রায় বিস্তারিতভাবে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে তুলে ধরেন।

এএস