ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, তথাকথিত অসম পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাঙালী-পাহাড়ি বৈষম্য প্রকটতর হওয়া ছাড়াও পার্বত্য বাংলাভাষী জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার উপক্রম হবে। তিনি বলেন, সন্তু লারমার  অসহযোগ আন্দোলনের হুমকি একটি অশনি সংকেত।

বৃহস্পতিবার  গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন ।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাংলাভাষাভাষী অধিবাসীদের নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বাঙালীরা আগের মতো উচ্ছেদ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হবে। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান, ভূমিকা, দায়িত্ব, কর্মপরিসর, কার্যধারা ও দেশ রক্ষার্থে গৃহিত তাদের যাবতীয় তৎপরতাকে খর্বিত, সীমিত ও বিপর্যস্ত করে তোলার উপক্রম হচ্ছে।

তাছাড়া সেনাবাহিনীকে কেবল সেনানিবাসে সীমাবদ্ধ করে দায়িত্বহীন অবস্থায় রাখা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গভীর অরণ্য, পর্বত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে স্থাপিত পাঁচ শতাধিক সেনা ক্যাম্প উঠে যায়। দীর্ঘ পরিশ্রম, বিপুল অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা ৭৩টি হেলিপ্যাডসহ প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক  ভেঙ্গে পড়ে। তথাকথিত পার্বত্য চুক্তির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর বৃহৎ প্রতিবেশি আগ্রাসী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ লাভের দীর্ঘ দিনের বাসনা পূর্ণ হবে। সেনাবাহিনী প্রত্যাহারে পার্বত্য চট্টগ্রামে  দেশ রক্ষার্থে গৃহিত যাবতীয় তৎপরতাকে বিপর্যস্ত করে তোলা ছাড়াও সেখানকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বত্র  স্থাপিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক  ভেঙ্গে পড়ে।

পার্বত্য চট্টগামে একমাত্র আদিবাসী হিসেবে উপজাতীয় নাগরিকদের দাবিকে অসার হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন যে, পার্বত্য এলাকাটি সুপ্রাচীনকাল থেকেই  বাঙালী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ছিল।  তখন উক্ত এলাকার নাম ছিল  খোদাবকশ খান। উক্ত এলাকায় উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটে দুইশ’থেকে আড়াইশ’বছরের মধ্যে। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও অন্যান্য উপজাতীয় অধিবাসীরা কোনোভাবেই ওই এলাকার আদিবাসী নয়। বরং উপজাতীয় বাঙালীরাই সেখানকার আদিবাসী। সন্ত্রাসী শান্তিবাহিনীর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার সময়ও পার্বত্য এলাকায় বাঙালীরাই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ।

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী আরো বলেন যে,  ১৯৯৭ সালের বিতর্কিত অসম, অসাংবিধানিক ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী পার্বত্য কালো চুক্তির অধীনে গৃহিত কতিপয় সিদ্ধান্তে  পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাঁচ লাখের ও বেশি বাংলাভাষাভাষী অধিবাসীর ভয়াবহ মাত্রায় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, উচ্ছেদ ও বহিষ্কারের শিকার হচ্ছে।  বাঙালী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের স্টীমরোলার চালু হচ্ছে।  অসম এই চুক্তির ফলে  আঞ্চলিক পরিষদে আনুপাতিকহারে বাঙালীর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় নানা ক্ষেত্রে সৃষ্ট বাঙালী-পাহাড়ি বৈষম্য প্রকটতর হয়।  তাছাড়া পার্বত্য বাংলাভাষী জনগণের সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণরূপে খর্ব হচ্ছে।

তিনি  অসাংবিধানিক ও দেশের স্বার্থ বিরোধী পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে দলমত ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে  ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্যে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ।

জেএ