সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াত আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্যে রাজপথে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক ও চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরও কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে একের পর এক নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি আলেম ও মাদরাসা ছাত্ররাও। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই অপশক্তির লজ্জাজনক পতন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই আমরা দেশে মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি। এ সময় তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল আত্মোৎসর্গকারীদের শহীদের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া, আহতদের প্রশান্তি ও সুস্থতা এবং শহীদ পরিবারকে সবরে জামিল ধারণের তাওফিক কামনায় দোয়া করেন।’

এ সময় থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবু নাহিদের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, শাহ আলম তুহিন ও শূরা সদস্য ডা. মঈন উদ্দিন প্রমুখ।

এ সময় জামায়াত আমির আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদেরকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে দেশকে অপরাধ ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু লজ্জাজনক পতনের পরও তারা খাসলত বদলাতে পারেনি। ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা পলাতক অবস্থায় ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। এরাই একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী উদযাপন করেছিল। এদের হাত থেকে কোনো শ্রেণি পেশার মানুষ রেহাই পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের শীর্ষনেতাদের ফাঁসির মুখোমুখি করে অপরাধ স্বীকার পূর্বক প্রাণভিক্ষা চাওয়ার মুখোমুখি করেছিল। কিন্তু জামায়াত নেতারা হিমালয়ের মতো অবিচল থেকে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। এতে দেশ ও জাতি সম্মানিত হয়েছে। এ সময় তিনি আগস্ট শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশকে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তাই এই ঐক্য ধরে রাখার জন্য সকলকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে হবে। না হয় ফ্যাসিবাদী অপশক্তি অবারো জেগে উঠতে পারে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি