বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাল নথির ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় প্রতিহিংসামূলক বিচারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। এ মামলাতে বেগম জিয়ার বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই। মূলত শেখ হাসিনার নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে। আর এই বন্দিশালার চাবি রয়েছে শেখ হাসিনার হাতে, অন্য কোথাও নয়।

শনিবার (২৮ জুলাই) দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণদাবিকে সুনজরে দেখেন না বলেই জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রীকে বন্দি করেছেন। এই বন্দিশালা আপনার (শেখ হাসিনার) হুকুমে পরিচালিত হয়, কোন আইনের দ্বারা পরিচালিত হয় না বলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না, কারাবিধি অনুযায়ী স্বজনরা তাঁর সাথে সপ্তাহে একদিন দেখাও করতে পারছেন না। কারাগারে দেশনেত্রীর ওপর জুলুমের তীব্রতার মাত্রা নিশ্চিত করতে আপনি সবসময় খবর নিচ্ছেন। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে নিজের মতো করে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিচ্ছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মানববাদী জীবনাদর্শের জাগরণকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বিষাক্ত প্রতিহিংসায় স্তব্ধ করে দিতে চাচ্ছেন। অনন্ত ক্ষমতা ভোগের লালসার জন্য জনগণকে ত্যাজ্য করে হুমকি, হত্যা, সন্ত্রাস ও চোখ রাঙানীতেই ভরসা করছে ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজনের ক্রুদ্ধ প্রতিহিংসার শিকার।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ১/১১ এর সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পাঁচটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দিয়েছিল পনেরটি। শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম জিয়ার মামলা যদি সত্য হয়, তাহলে তার ১৫ টা মিথ্যা হবে কেন ? এসব মামলা মিলিয়ে তো আপনার একশো বছরের বেশি জেল হবার কথা।

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিব্যি বহাল তবিয়তে আপনার বিরোধীদের পিন্ডি চটকাচ্ছেন। অথচ আপনি কারাগারে নেই, আপনি ক্ষমতা দখল করে দখলদার প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আপনার ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, আপনার ক্ষমতার উৎস অন্য কোথাও। সেজন্য বেপরোয়া, বেআইনী, নিষ্ঠুর, নৃশংস পথ অবলম্বন করতে আপনার বিবেক দংশন হয় না। 

সিটি নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, আগামী তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন মহল একটা ধুলিঝড়ের সৃষ্টি করে মূলত: খারাপ কোন চক্রান্তে মেতে আছে। আসলে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের অধিকার ফিরে পাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গন্য করে, সেজন্য তারা ভোট সন্ত্রাস ও ভোট কারচুপির নতুন নতুন মডেল আবিস্কার করে যাচ্ছে। তিন সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ আসতে থাকে। আবার পাশাপাশি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট প্রার্থী এবং সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন করতে হবে। তবেই কেবল মাত্র সংলাপ হতে পারে’।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেহেদী হাসান রুমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।