বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থান হবে কারাগারে- এমন বক্তব্য দেয়ায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

তিনি বলেছেন, ইনু সাহেব ভোটার বিহীন মন্ত্রী হয়েছেন জানতাম, তবে বিচারক কবে হলেন তা তো জানতাম না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. রিপন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বোমাবাজি, সন্ত্রাসের জনক হচ্ছেন ইনুরা। তারই এদেশে হত্যা-সন্ত্রাসের অপরাজনীতি শুরু করেছিলেন। এই ইনুরাই শেখ মুজিবের শাসনকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ঝালাপালা করে দিয়েছিলো। যার কারনে দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করলেও শেখ মুজিব একদলীয় বাকশাল শাসনের কলঙ্গ গায়ে মাখাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

রিপন আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় প্লাবিত হয়ে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। কিন্তু সরকারের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেই কেবল জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতো। কিন্তু ভোটার বিহীন এই সরকারের জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নেই।

 

রিপন বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানিবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে চিত্র তুলে ধরেছেন তাতে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ। দেশের জরুরী অবস্থা নেই, তারপরও গণমাধ্যমকর্মীরা নিজ থেকেই অনেক কিছু সেন্সর করেন। মিডিয়া যখন ভয়ভীতির মাধ্যমে কাজ করে তখন তা প্রকৃত গণমাধ্যম হতে পারেনা।

রিপন বলেন, গতকাল (শুক্রবার) খুচরা পার্টির নেতা ইনু বলেছেন, খালেদা জিয়ার জায়গা হবে কাশিমপুর কারাগারে। আমরা জানি না, তিনি কবে বিচারক হলেন। আমরা বলছিনা, ইনুর জায়গা হবে কুষ্টিয়া কারাগারে। কারন আমরা বিচারক নই।

’৭৫ এর পর ইনুরাই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সে অপরাধে সে গ্রেফতারও হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় তিনি আজও বেঁচে আছেন, রাজনীতি করছেন, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার সুযোগ পাচ্ছেন। মুলত নিজেদের হীণ স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই খুচরা পার্টির নেতারা নানারকম উস্কানিমুলক বক্তব্য দিয়ে দেশের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করতে চায়।

বিএনপি বিশেষ করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্পর্কে নানা ধরনের আবোল তাবোল উত্তেজিত কথা বলে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করতে চায়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা এসব খুচরা নেতাদের বক্তব্যে সায় দেবেন না। তিনি বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের পদক্ষেপ নেবেন। বিএনপিও এই খুচরা পার্টির নেতাদের আবোল তাবোল-উস্কানিমুলক বক্তব্যে উত্তেজিত হয়ে তাদের ফাঁদে পা দেবেনা।

 

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল হক শাহাজাদা মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এমএইচ/ এআর