আটকের ২৪ ঘণ্টা পরেও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ বলেছে, মাসুদকে আটকের কোনো খবর তাদের কাছে নেই। তবে পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার পরই মাসুদকে একটি নম্বর-প্লেটবিহীন গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই।

মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার গতরাতে বলেন, এমন কোনো আটকের খবর তার জানা নেই।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উচ্চ আদালতের নির্দেশে রোববার কারাগার থেকে মুক্তি পান। সন্ধ্যায় তিনি কারাফটক থেকে বের হওয়ার পরেই একটি নম্বরপ্লেট ছাড়া গাড়িতে তাকে টেনে হিচড়ে তোলা হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে ওই লোকগুলো নিজেদেরকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেয়।

ড. মাসুদের বৃদ্ধ বাবা অধ্যাপক সিরাজুদ্দিন খান ও মা কানিজ ফাতেমা জানান, সবগুলো মামলা থেকে মাসুদ জামিন পেয়েছে। তারপর এর সাথে ‘নো এরেস্ট ও নো হ্যারেজ’নামে হাইকোর্টের একটি আদেশও রয়েছে। এরপরও মুক্তির পর তাকে কারাফটক থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনো সন্ধান না পাওয়ায় তার জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

তারা বলেন, সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের সন্তানকে আদালতে হাজির করা হোক। আমাদের সন্তানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দীর্ঘ ১৯ মাস কারাভোগের পর তাকে রোববার মুক্তি দেয়া হয়। রাত সোয়া ৮টার দিকে তার আইনজীবী, আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সাদা পোশাকধারী কিছু লোক ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নম্বরবিহীন একটি কালো মাইক্রোবাসে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরই তার স্বজনরা ডিবি কার্যালয়ে ছুটে যান। কিন্তু মাসুদের কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি তারা। পুলিশ বলেছে ওই নামে তারা কাউকে গ্রেফতার বা আটক করেনি। আজ দিনভর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়েও ব্যর্থ হন। প্রতিটি জায়গা থেকে বলা হয় ওই নামে তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি।

পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, মাসুদকে যখন টেনে হিচড়ে তুলে নেয়া হয় তখন সেখানে একটি ছবি তোলা হয়। ওই ছবিতেই রয়েছে কারা মাসুদকে তুলে নিয়েছে।

আজ সোমবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মারুফ হোসেন সরদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই নামে তারা কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেননি। বিষয়টি তার জানা নেই।

এদিকে কারাফটক থেকে ড. মাসুদকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর শাখা। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ নিন্দা জানান। সূত্র-নয়া দিগন্ত।

এমবি