দেশে গণতন্ত্র নেই, দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই অবস্থা থেকে রক্ষার জন্য শুধু আমরা নই, জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘রমজানে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন দুর্নীতিবাজ, বেইমানদের এমন শাস্তি দেন যার পরিণতি হবে করুন ও ভয়াবহ।তাই সবার কাছে আহ্বান থাকবে দেশ রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।’
২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এনপিপির ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি বুধবার বিকালে এসব কথা বলেন। হোটেল সোনারগাঁও গ্রান্ড বলরুমে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিকাল ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি যোগ দেন। রাজনৈতিকদের সম্মানে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এপিপি এর চেয়ারম্যান ২০ দলীয় জোট নেতা ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করা হয়।
ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে অত্যাচার, জুলুম, গুম, খুন চলছে। রমজানে আমরা আল্লাাহর কাছে দোয়া করবো যাতে এ অবস্থা থেকে তিনি আমাদের দেশকে রক্ষা করেন। দেশের মানুষ সকলে অস্থির। তাই জনগণকে বলবো শুধু আমাদের দিকে তাকিয়ে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদেরও যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’
২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার কারণে নেতকর্মীরা লুকিয়ে আছে।বলা হয় এরা বাসে পেট্রোল বোমা মেরেছে। কিন্তু পুলিশ স্বীকার করেছে আন্দোলনের হাত থেকে সরকারের পরে যাওয়া রক্ষা করতে তারা নিজেরাই এসব কর্মকান্ড ঘটিয়েছে।’
বিচার বিভাগ স্বাধীন নয় এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এই পুলিশকে গ্রেপ্তার করে বিচার আওতায় আনা হতো।কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলছেন, তারা এখন নিয়ন্ত্রিত। নিম্ন আদালতকে সরকারের কথা মতো চলতে হয়।’
সরকার ব্রাজিল থেকে পঁচা গম আমদানী করে মানুষকে খাইয়ে মারতে চায় বলেও অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, “ওই গম গো খাদ্য।কিন্তু সরকার এগুলো মানুষকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।”
স¤প্রতি গণমাধ্যমে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ বাড়ছে এমন খবরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে লুটপাট চলছে। বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে।সুইস ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। এসব কাদের টাকা। বাংলাদেশের জনগণের টাকা। আর যারা ক্ষমতায় আছে তাদেরই বেশি হওয়ার কথা।কিন্তু তারা এটা ভোগ করতে পারবে না।’
বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে এমন দাবি করে বিএনপির প্রধান বলেন, ‘পুলিশ এখন ফ্রি হ্যান্ড পেয়েছে।মনে হচ্ছে তারাই রাষ্ট্র চালাচ্ছে।যার কারণে সরকার তাদের কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছে।পুলিশ এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা কোনো কিছুই মানে না। দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’
ইফতার পার্টিতে যোগ দেন- ২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটি পার্টি(এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, রেদওয়ান উল্লাহ সাহেদী, বাংলাদেশ ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, জমিয়তে ওলামায়ে বাংলাদেশের নেতা মুফতি মাওলানা ওয়াক্কাস, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাপ ভাসানী মাওলানা আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আমম্মেদ, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হয়দার, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ, সিনিয়ির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ।
এছাড়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবীবুর রহমান হাবীব, নিবার্হী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
পেশাজীবীদের মধ্যে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী।
এমএইচ





