বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষকদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। কৃষিতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে, আর বিএনপির শাসনামলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ‘অগ্রগতি’ হয়েছিল।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে এসব কথা বলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, কৃষক ও কৃষি উন্নয়ণে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দেশের উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সকল পন্যের সবচেয়ে বড় ভোক্তা কৃষক আজ দিশেহারা। 'অবৈধ' সরকার এই খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

এ সময় কৃষিকে ‘বাঁচাতে’ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তা নাহলে কৃষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ন্যায্য দাবি আদায় করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭৪ সালে র্দুভিক্ষের পর জিয়াউর রহমান কৃষিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন যার কারণে কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষিকে বিশেষ গুরুত দেওয়ায় দেশে কৃষি বিপ্লব হয়েছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগের লোকেরা কৃষকের মাছ, জমি দখল করে আজ দিশেহারা করে দিয়েছে।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, কৃষক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলেও সরকার তাদের ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে। কৃষি উপকরনের দাম বাড়িয়েছে দফায় দফায় অথচ তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। সরকার শুধু দুর্নীতির কারণে ভারত থেকে চাল আমদানী করে আবার বিদেশে রপ্তানী করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ দেশের নিরীহ কৃষক।

সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সুন্দরবন ধ্বংস করে দিয়েছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই মূখপাত্র বলেন, সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে তেলের ট্র্যাক ডুবিয়েছে। নৌ মন্ত্রীর কথায় প্রমাণ করে তাদের অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকার অপপ্রচার ও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এদেশের জনগণ তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচার বিশ্বাস করে না। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ।

এমএইচ, জেএ