বাংলাদেশের নদীগুলো এখন হুমকির সম্মুখীন। নদী বাঁচাতে না পারলে দেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্ত্ব বিপন্ন হবে।
কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নেতারা শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন।
একইসাথে আগামী ৭ এপ্রিল দেশব্যাপী 'দাবি দিবস’ এবং ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে তিস্তা অভিমুখে তিস্তা মার্চ' কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠন দু'টির নেতারা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396714350.jpg[/img]
আন্তর্জাতিক নদীর পানি পার্শ্ববর্তী দেশ কর্তৃক প্রত্যাহার বন্ধ এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়।
নেতারা আরও বলেন, নদীমার্তৃক বাংলাদেশ এখন তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে এখন ৩০০-এর নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে, পানিশূন্য হয়ে বাংলাদেশ সাহারা মরুভূমির মতো হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এবং লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396714440.jpg[/img]
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, আহসান হাবিব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাহেদুল হক মিলু, মাহবুবুল আলম, রাজেকুজ্জামান রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, ইদ্রিস আলী, আব্দুর রাজ্জাক ও খালেকুজ্জামান লিপন।
সংবাদ সম্মেলনে খালেকুজ্জামান বলেন, এক সময় কৃষি, শিল্প, যাতায়াত, গৃহস্থালী-সবকিছুর উৎস ছিল পানি। বাংলাদেশ ছিল পানির আধার। কিন্তু পানি-সংকটে বাংলাদেশ এখন বিপন্ন।
তিনি বলেন, ভারতের তিস্তা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও টিপাইমুখ প্রকল্প এবং ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প, আন্তর্জাতিক নদী সংক্রান্ত বিধি-বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও মানবতাবিরোধী। ভাটির দেশ হিসেবে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের জন্য ন্যাচারাল রাইট বা ন্যায্য পাওনা।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, উজানের দেশ হিসেবে ভারত আগে থেকেই ব্যারেজ ও সেচকাজের মাধ্যমে পানি সরিয়ে ফেলায়, বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজ অনেকাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিস্তা পরিণত হয়েছে ধূ ধূ বালি প্রান্তরে। আবার, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায়, বাংলাদেশ অংশে বন্যা ও নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়।
তিনি বলেন, বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ এবং ব্রহ্মপুত্র থেকে পানি সরিয়ে নেওয়ার আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই সব প্রকল্প চালু হলে, বাংলাদেশের ওপর ভয়ঙ্কর রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে। শুধু তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা নয়, ভারতের সাথে ৫৪টি অভিন্ন নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থাপনা-ব্যবহার-উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য চীন, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যৌথ অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন।
[b]ঢাকা, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
রাজনীতি
নদী মরলে দেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্ত্ব বিপন্ন হবে
বাংলাদেশের নদীগুলো এখন হুমকির সম্মুখীন। নদী বাঁচাতে না পারলে দেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্ত্ব বিপন্ন হবে। নদীমার্তৃক বাংলাদেশ এখন তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে এখন ৩০০-এর নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে, পানিশূন্য হয়ে বাংলাদেশ সাহারা মরুভূমির মতো হয়ে পড়বে





