পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মনোয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
২দিন আগে বেগম জিয়া তার মনোয়নপত্রে স্বাক্ষর করলেও আজ (২৫ নভেম্বর) রোববার একজন কারা কর্মকর্তার মাধ্যমে সেটি আবারও ঢাকার জেলা প্রশাসক -এর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন এর পক্ষে দলের শীর্ষ নেতারা একাধিক আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী কারাবন্দী কোন আসামীর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করাতে হলে স্ব-স্ব জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরের পর ঢাকা জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের যাবতীয় কাগজপত্র বাহকের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়। কর্তৃপক্ষ তার কাগজপত্র যাচাই করে পরদিন শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) সকালে তার স্বাক্ষর নিতে ডেপুটি জেলার পদমর্যাদার একাধিক কারা কর্মকর্তা পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে যান। তারা খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তার ৩টি নির্বাচনী আসনে অংশ নেয়ার জন্য মনোয়নপত্রে স্বাক্ষর নেন।
আজ (২৫ নভেম্বর) কারা অধিদফতরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) মনোয়নপত্রে স্বাক্ষর শুক্রবারই নেয়া হয়েছে। তবে ২দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রগুলো সত্যায়িত করে একজন ডেপুটি জেলারের মাধ্যমে আজ (রোববার) আবার ডিসি অফিসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ন-সচিব বিজন কান্তি সরকার বুধবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে ৩টি মনোনয়নপত্র ও আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র দিয়ে আসেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ের পর থেকেই একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেন। সেখান থেকে গত ০৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। এরমধ্যে আবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের পর থেকেই আবারও বেগম জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
এমবি





