বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তিতে দিন কাটছে বিএনপির। ঘরে ও বাইরে পড়ছেন তোপের মুখে। একদিকে উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীরা হর হামেশাই তাদের দলে সুর তুলছে ভাঙ্গনের। এনিয়ে বেকায়দায় রয়েছে স্থানীয় কিংবা কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা বলছেন, বিদ্রোহীদের ঠেকাতে না পারলে ভবিষ্যতে বিএনপির ঘরে জ্বলবে দাবানল। এ আগুনে ছারখার হয়ে যাবে বিজয়ের নাম নিশানা। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলের জন্য আগামী দিনের করণীয় বিষয়টি।
তবে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের দাবি, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রুপ-উপগ্রুপ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আগামী দিনে জয়ের মালা বিএনপির ঘরে আসবে না।
দলীয় ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সে নির্বাচনে ৮৩ উপজেলার মধ্যে ৩৩টিতেই রয়েছে বিদ্রোহীদের পদচারণা। যত দ্রুত সম্ভব এ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে বিএনপির ঘরে হানা দেবে আওয়ামী লীগ।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পেলেও আগামী ১৫ মার্চ ৮৩ উপজেলায় অনুষ্ঠেয় তৃতীয় দফা নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি।
৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও আন্দোলনের অংশ হিসেবেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয় সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা আর মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকলেও প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে চমক দেখাতে সক্ষম হয় বিএনপি। দ্বিতীয় পর্যায়েও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছিল দলটি।
কিন্তু ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফায় ৮৩ উপজেলা নির্বাচনের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও মাঠের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কারণ দলের কঠোর নির্দেশনার পরও বেশ কয়েকটি উপজেলায় এখনও বিদ্রোহী প্রার্থীরা বহাল আছে। অন্যদিকে কয়েকটি উপজেলায় ১৯ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এসব নিয়ে ১৫ মার্চের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি।
যদিও শুরুতেই সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় এই নির্বাচনের ফল নিজেদের ঘরে তুলতে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য দলের তৃণমূল পর্যায়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এরপরও বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়ে গেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীকে সরে দাঁড়াতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সমঝোতামূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে তাদের বিরত রাখতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের। তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সমঝোতার মধ্য দিয়ে একক প্রার্থী সমর্থনের বিষয়ে দল ও শরিকদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এরপরও নিজ অবস্থান থেকে সরে না এলে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে।
তৃতীয় দফায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এ পর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ৮ জনকে। যারা সবাই স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। কিন্তু সামনে মাঠের আন্দোলনের কথা বিবেচনায় অনেক জায়গায়ই বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করতে পারছে না বিএনপি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়েই কেন্দ্রীয়ভাবে দলের যুগ্ম মহাসচিবদের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করেছে বিএনপি। এই সেল নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত উপজেলায় দল ও জোটের একক প্রার্থী নির্ধারণে ভূমিকা রাখছেন বলে টাইম নিউজকে জানিয়েছেন সেলের সদস্য ও বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।
তৃতীয় দফা অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে রিজভী আহমেদ আরও বলেন, স্থানীয় নেতারাই একক প্রার্থী নির্ধারণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি উপজেলার সমস্যা আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু জায়গায় একাধিক প্রার্থী থাকলেও আশা করছি নির্বাচনের আগেই তা সমাধান হয়ে যাবে।
বিদ্রোহীদের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির আরেক যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু টাইম নিউজকে বলেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েই উপজেলা নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। তারপরও কিছু জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়, সেটি সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা হয়ে থাকে। তবে একটি বিষয় ঠিক এখন পর্যন্ত দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে খুব বেশি সংখ্যক প্রার্থী বিজয়ী হয়নি। এতে প্রমাণিত হয়েছে দলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ৬ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর //এএইচ[/b]